
শেষ আপডেট: 1 December 2023 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: আমডাঙা তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান খুনে মূল অভিযুক্ত সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
১৬ নভেম্বর আমডাঙার পঞ্চায়েত প্রধান রূপচাঁদ মণ্ডলকে বোমা মেরে খুন করার ঘটনা ঘটে। এরপরেই পুলিশ ২ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু মূল অভিযুক্ত আলি আকবর মণ্ডল ও তার তিন সঙ্গীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। চারিদিকে তল্লাশি চালানোর পর ঘটনার ১৭ দিন বাদে আলি আকবর সহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, এই তিন সঙ্গীর নাম কাজি আনোয়ার হোসেন, শামসুদ্দিন মণ্ডল ও গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল। প্রত্যেকেরই বাড়ি আমডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাডাঙা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন আলি আকবর, রূপচাঁদের উপর বোমা-হামলা চালিয়েছিল। সেই সময় তার এই তিন সঙ্গীও ঘটনাস্থলে ছিল। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা, তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বারাসাতের পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বসিরহাটের মাটিয়া থেকে মূল অভিযুক্ত আলি আকবর মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জেরা করার পরে বাকি তিনজনও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এখনও পর্যন্ত আমডাঙা পঞ্চায়েত প্রধান রূপচাঁদ মণ্ডল খুনের ঘটনায় এই নিয়ে মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হল। নতুন করে গ্রেফতার হওয়া চারজনকে এদিন বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ঘটনার দিন সন্ধেয় আমডাঙা থানার কামদেবপুর হাটে গিয়েছিলেন রূপচাঁদ। প্রায় প্রতিদিনই সেই হাটে যেতেন তিনি। তবে অন্যান্য দিন তাঁর সঙ্গে কেউ না কেউ থাকলেও ওই দিন তিনি একাই গাড়ি চালিয়ে হাটে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার জন্য গাড়িতে ওঠার সময় তিনজন দুষ্কৃতী এসে রূপচাঁদকে ঘিরে ধরে। তারপরই তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা মারতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে গাড়ির নীচে লুকানোর চেষ্টা করেন রূপচাঁদ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রাতে মৃত্যু হয় রূপচাঁদের।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই ব্যাপারে পুলিশ এখনও কোনও প্রমাণ পায়নি।