দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগুন লাগানো। দাঙ্গাহাঙ্গামা করা। এই দু’টি মারাত্মক অভিযোগে জেল খাটছিল গুজরাতের চারজন। তাদের নাম উমেশভাই ভারোয়াদ, রাজকুমার, হর্ষদ এবং প্রকাশভাই রাঠোর। ২০০২ সালে দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতবছর গুজরাত হাইকোর্ট তাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট চারজনকেই জামিন দিয়েছে। বিচারপতিরা বলেছেন, ওই দণ্ডাদেশ বিতর্কের উর্দ্ধে নয়।
২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেদাবাদ শহরের নরোদা পাতিয়া অঞ্চলে বীভৎস গণহত্যা ঘটে। গোধরায় ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে সেদিন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বন্ধের ডাক দেয়। অভিযোগ, বন্ধের মধ্যে বজরং দলের পাঁচ হাজার সমর্থক হানা দেয় নরোদা পাতিয়া অঞ্চলে। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা ধরে সেখানে খুন, লুটপাট, গণধর্ষণ, মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা ইত্যাদি চলতে থাকে। অন্তত ৯৭ জনের মৃত্যু ঘটে। পরে ওই এলাকায় কার্ফু জারি হয়।
ওই গণহত্যার ঘটনায় অন্যান্য দণ্ডিতের পক্ষেও সুপ্রিম কোর্টে আপিল জমা পড়েছে। বিচারপতিরা সেই আবেদনগুলিও খতিয়ে দেখবেন। এমনকী ওই দাঙ্গায় যে প্রধান অভিযুক্ত, সেই বাবু বজরঙ্গির আবেদনও খতিয়ে দেখা হবে।
গতবছরই নরোদা পাতিয়া গণহত্যা মামলায় ১৬ জন শাস্তি পায়। মুক্তি দেওয়া হয় ১৮ জনকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপির মন্ত্রী মায়া কোদনানি।
মায়া কোদনানি পেশায় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। নিম্ন আদালত তাঁকে নরোদা পাতিয়ার মামলায় ‘প্রধান অভিযুক্ত’ বলে চিহ্নিত করে। দাঙ্গার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল নিম্ন আদালতে জানিয়েছিল, তিনি জনতাকে নরোদা পাতিয়ায় আক্রমণ করতে প্ররোচনা দিয়েছেন। দাঙ্গার পরে পাঁচ বছর তিনি গুজরাতে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী হিসাবে কাজ করেন। ২০০৯ সালে তিনি গ্রেফতার হন। ২০১২ সালে তাঁর দণ্ডাদেশ হয়। কিন্তু গত বছর ‘বেনিফিট অব ডাউটে’ তাঁকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গুজরাত হাইকোর্টের বিচারপতি ২৫ জুন মন্তব্য করেন, দাঙ্গাপীড়িতদের শোচনীয় অবস্থার কথা আমরা ভুলে যেতে পারি না। দাঙ্গায় আলাদাভাবে কোনও ব্যক্তির ওপরে আক্রমণ করা হয়নি। সামগ্রিকভাবে সমাজই আক্রান্ত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সমাজে বিভাজন ঘটানো।
অভিযুক্তদের সম্পর্কে হাইকোর্ট মন্তব্য করে, তাদের লঘু শাস্তি দিলে ন্যায়বিচার হবে না। ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এক্ষেত্রে যথেষ্ট শাস্তি বলে বিবেচিত হতে পারে। এই মামলায় যদি উদার দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করা হয়, তাহলে সমাজের বিরুদ্ধেই কাজ করা হবে।