দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর (Lakhimpur) খেরিতে কৃষকদের জমায়েতে ধাক্কা মারে একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল। চার কৃষকের মৃত্যু হয়। গাড়ির মালিক তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস গ্রেফতার হয়েছেন আগেই। সোমবার এসইউভি-র আরও চার সওয়ারকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পুলিশের শীর্ষস্থানীয় অফিসার প্রশান্ত কুমার এক বিবৃতি দিয়ে বলেন, "অভিযুক্ত সুমিত জয়সোয়াল, শিশুপাল, নন্দন সিং বিস্ত এবং সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠি গ্রেফতার হয়েছেন। ত্রিপাঠির কাছে একটি লাইসেন্সড রিভলভার ও তিনটি বুলেট পাওয়া গিয়েছে।"
এক ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছিল, স্থানীয় বিজেপি নেতা সুমিত ত্রিপাঠি ঘাতক গাড়ি থেকে নেমে পালাচ্ছেন। পরে তিনি পুলিশে এফআইআর করে বলেন, কৃষকরা তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছিল। ফলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তাঁর এক বন্ধু, গাড়ির ড্রাইভার ও অপর দু'জনকে পিটিয়ে মারে কৃষকরা।
৩ অক্টোবর লখিমপুরে এক সভায় অজয় মিশ্রের আসার কথা ছিল। কৃষকরা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সুমিত দাবি করেন, তাঁদের গাড়িটি দাঁড়িয়েছিল। সেখানে ছিল ভয়ের পরিবেশ। কৃষকরা অনেকে লাঠি নিয়ে গাড়ির ওপরে উঠে পড়েছিল। তারা স্লোগান দিচ্ছিল খলিস্তান জিন্দাবাদ।
অজয় মিশ্রের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার বেলা ১০ টা থেকে বিকাল চারটে অবধি রেল রোকোর ডাক দিয়েছিল সংযুক্ত কৃষক মোর্চা। সেইমতো সকাল থেকে পাঞ্জাব ও অপর কয়েকটি রাজ্যে আন্দোলনকারীরা ট্রেনলাইনে বসে পড়েন। ১৬০ টির বেশি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। রেল সূত্রে খবর, ফিরোজপুর ডিভিশনের চারটি সেকশনে এদিন অবরোধ হয়। ফিরোজপুর-ফাজিলকা সেকশন ও ফিরোজপুর-লুধিয়ানা সেকশনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, বিভিন্ন জেলায় এদিন রেল অবরোধ হয়েছে। সরকার এখনও আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছে না।
রবিবার লখনউ পুলিশ জানিয়েছিল, যারা রেল রোকো আন্দোলনে অংশ নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত করলে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হবে।
সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, "অজয় মিশ্র ঘৃণা ছড়ান। তিনি হিন্দু ও শিখদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছেন। তাঁর গাড়িই আন্দোলনরত কৃষকদের চাপা দিয়েছিল। পুলিশ তাঁর ছেলেকে তলব করা সত্ত্বেও তিনি ছেলে ও তার কয়েকজন বন্ধুকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।"