দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়ম মেনেই র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট হচ্ছে দিল্লিতে। গত ১৮ জুন থেকে ২৯ জুলাই অবধি ৪.৭৮ লাখ অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে। যে কোভিড রোগীদের শরীরে ভাইরাস সক্রিয়, উপসর্গও রয়েছে কিন্তু অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে, তাদের রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টও করানো হয়েছে। অতএব করোনা পরীক্ষায় কোনও গলদ নেই, দিল্লি হাইকোর্টের প্রশ্নের জবাবে বলল কেজরিওয়াল সরকার।
গত দু’সপ্তাহে রাজধানীতে করোনা সংক্রমণের হার কমতির দিকে। ‘আর নম্বর’ তথা এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন রেট একের নীচে নেমে গেছে ০.৬৮। অর্থাৎ করোনা সক্রিয় রোগীর রোগীর সংখ্যা কমেছে, সেই সঙ্গেই কমেছে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার। দিল্লিতে একসময় সংক্রমণ বৃদ্ধির হার মাত্রাছাড়া হয়ে গিয়েছিল, সেখানে হঠাৎ করেই কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা কমতে থাকায় প্রশ্ন তোলে দিল্লি হাইকোর্ট। র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের পদ্ধতি নিয়েও সওয়াল করা হয়।
দিল্লিতে গত ১৮ জুন থেকে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটেই করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। হাইকোর্ট জানায়, এই টেস্টের রেজাল্ট নিয়ে সংশয় আছে। কারণ ভাইরাসের সংক্রমণে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেই তাকে চিহ্নিত করতে পারে অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট। আর ভাইরাসের সংক্রমণে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতেও সময় লাগে। এমনও দেখা গেছে উপসর্গ রয়েছে অর্থাৎ সিম্পটোমেটিক রোগী কিন্তু অ্যান্টিজেন টেস্টে তার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সেক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর টেস্ট করিয়ে নিশ্চিত রেজাল্ট পাওয়াই জরুরি। তাই কীভাবে অধিক সংখ্যক মানুষের কোভিড টেস্ট এই পদ্ধতিতে হচ্ছে সেখানে সঠিক রিপোর্ট নিয়ে সংশয় রয়েছে। হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, এই পদ্ধতিতে তো উপসর্গহীন রোগীদের সংক্রমণ ধরাই পড়বে না। ফলে উপসর্গহীন করোনা রোগীদের চিহ্নিত করাই যাবে না।
হাইকোর্টের প্রশ্নের জবাবে, বৃহস্পতিবার টুইট করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, ১৮ জুন থেকে ৪ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে। ১ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই অবধি ৩ লাখ ৯ হাজার অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে। এই পর্বেই প্রায় ১.৮ লাখ আরটি-পিসিআর টেস্টও হয়েছে।
কেজরিওয়ালের বক্তব্য, ২৩ জুলাই অবধি, উপসর্গ রয়েছে এমন ২৮১৮ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। প্রত্যেকেরই আরটি-পিসিআর টেস্ট হয়। তাতে ৪০৪ জনের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে। অতএব অ্যান্টিজেন টেস্টে সবক্ষেত্রেই যে রেজাল্টে গলদ এসেছে তেমনটা নয়। টেস্ট রিপোর্টে সামান্য সন্দেহ থাকলেও আরটি-পিসিআর টেস্ট করিয়ে নেওয়া হয়েছে।
করোনার হটস্পট চিহ্নিত এলাকা, কনটেইনমেন্ট জ়োনগুলিতে কম সময় বেশি মানুষের করোনা পরীক্ষার জন্য র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টেই সায় দিয়েছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ। এই টেস্টে ৩০ মিনিটের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। যদিও আইসিএমআর জানিয়েছিল, আরটি-পিসিআর টেস্টের সাফল্য যেখানে ৭০%, অ্যান্টিজেন টেস্টে তা ৪০%। আরটি-পিসিআর টেস্টের মতো ভাইরাল স্ট্রেন চিহ্নিত করতে না পারলেও কম সময় সংক্রমণ পরীক্ষা করতে পারে অ্যান্টিজেন টেস্ট। যেখানে বহু মানুষের কোভিড টেস্ট করানো দরকার সেখানেই এই পদ্ধতিতে খুব তাড়াতাড়ি রেজাল্ট পাওয়া যায়।
অ্যান্ডিবডি টেস্ট বা সেরো সার্ভেও চলছে দিল্লিতে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি এই সেরো সার্ভের রিপোর্ট সামনে এনেছে। তাতে দেখা গেছে, দিল্লিতে এখনও অবধি ২৩.৫% মানুষের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এই রিপোর্ট আশা না জাগালেও সায়েন্টিফিট অ্যাডভাইজরি কমিটির অধ্যাপক জয়প্রকাশ মুলিয়িলের বক্তব্য, কম হলেও অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়েছে। দিল্লির কিছু এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির হারও কম। এর থেকেই অনুমান করা যায়, হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠছে ধীরে ধীরে।