দ্য ওয়াল ব্যুরো : এই অতিমহামারীর মধ্যে দেশের নানা প্রান্তে প্রশাসন আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষও ভাবছেন, কোভিড পরাজিত হয়েছে। এই মনোভাব বিপজ্জনক। কারণ শীঘ্রই আসছে অতিমহামারীর তৃতীয় ওয়েভ। সোমবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে এভাবেই সতর্ক করল চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন।
আইএমএ-র বক্তব্য, চিকিৎসক এবং রাজনীতিকদের যৌথ উদ্যোগে সদ্য করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ পেরিয়ে এসেছে দেশ। অতিমহামারীর ইতিহাস থেকে দেখা যায়, তৃতীয় ওয়েভ আসবেই। কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার হল, এই অবস্থায় দেশের নানা প্রান্তে জমায়েত হচ্ছে। মানুষ কোভিড বিধি মানছেন না।
আইএমএ বলেছে, “পর্যটন, তীর্থযাত্রা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সবকিছুরই প্রয়োজন আছে। কিন্তু তা কয়েক মাস বন্ধ থাকা উচিত। কারণ মানুষ যদি ভ্যাকসিন ছাড়াই বড় জমায়েত করে, তাহলে তা সুপার স্প্রেডারের ভূমিকা নেবে। কোভিডের তৃতীয় ঢেউ শুরু হবে দ্রুত।” চিকিৎসকদের মতে, গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, দু’টি উপায়ে কোভিডের তৃতীয় ঢেউকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। প্রথমত, সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কোভিড বিধি মেনে চলতে হবে।
সোমবার জানা যায়, দেশের দৈনিক কোভিড সংক্রমণ এখন ৩৭ হাজারের কোঠায়। দৈনিক সংক্রমণের হার কমলেও দেশের কয়েকটি রাজ্যে এখনও কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার চিন্তার কারণ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেব বলছে, রবিবারে দৈনিক সংক্রমণের হার ধরা পড়েছিল ২.২৫ শতাংশ। কিন্তু মহারাষ্ট্র, কেরল সহ ১৭টি রাজ্যের ৬৬টি জেলায় এখনও সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের বেশি। আর সংক্রমণের হার বেশি হওয়া মানে একজন আক্রান্তের থেকে বেশিজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বেশি।
দেশে এখন ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৪৫ লাখে এসে ঠেকেছে। কোভিড অ্যাকটিভ কেসের আর দুই শতাংশের নীচেই আছে। তবে কোভিডে মৃত্যু বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৭২৪ জনের। কোভিডে মৃত্যুহার ১.৩২ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিডে মৃত্যুহার এক শতাংশের নীচে নামিয়ে আনাই লক্ষ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ১৫টি রাজ্যের প্রায় ৯০টি জেলা থেকে ৮০ শতাংশ সংক্রমণের খবর মিলেছে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রের ১৫টি, কেরলের ১৪টি, তামিলনাড়ুর ১২টি, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটকের ১০টি করে জেলা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হারও বেশি। পজিটিভিটি রেট মানে হল প্রতি ১০০ জনের মধ্যে যতজনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসবে তার শতাংশের হিসেব। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, দেশের উত্তর ও দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। জুলাই ৮ তারিখের পর থেকে কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার আরও বেড়েছে কয়েকটি জেলায়। রাজস্থানের প্রায় ১০টি জেলায় সংক্রমণের হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে।