
শেষ আপডেট: 18 February 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার সংক্রমণ নেই। এবার নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরতে পারবেন চিন-ফেরত ভারতীয়রা। ছাড়পত্র দিয়ে দিল ডাক্তার ও সেনাবাহিনী। হরিয়ানার মানেসরের কাছে সেনাবাহিনী পরিচালিত বিশাল আইসোলেশন ইউনিট থেকে বুধবার সকালেই ছেড়ে দেওয়া হল ৩৪৮ জন ভারতীয়কে। প্রথম দফায় ছাড়া পেয়েছেন ২৪৮ জন, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্র। দ্বিতীয় দফায় ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের ক্যাম্পে শেষবারের মতো যাবতীয় পরীক্ষানিরীক্ষা সেরে ছাড়া হয়েছে আরও ১০০ জনকে।
নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চিনে মৃত্যুমিছিল শুরু হলে দেশে ফেরার আবেদন জানান সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকরা। মূলত উহান ও চিনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত ভারতীয় পড়ুয়াদের সংখ্যাই ছিল শতাধিক। ফেব্রুয়ারি ১ ও ২ তারিখে, দু’দফায় জাম্বো-বোয়িং ৭৪৭ জেটে চাপিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় ৬৪৭ জন ভারতীয় ও সাতজন মলদ্বীপের বাসিন্দাকে। বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের পরে চিন-ফেরত সকল যাত্রীকেই নিয়ে যাওয়া হয় মানেসরের কাছে সেনাবাহিনীর তৈরি বিশাল আইসোলেশন ইউনিটে। দু’সপ্তাহ সেখানেই কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছিল তাঁদেরকে।
ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ৪০০ বেডের ওই আইসোলেশন ইউনিটে যাঁদের জায়গা হয়নি, তাঁদেরকে রাখা হয়েছিল আইটিবি-র তৈরি বিশেষ ক্যাম্পে। সেখানেও তৈরি হয়েছিল আইসোলেশন কেবিন। এই ইউনিটে অভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সরা ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন চিন-ফেরত যাত্রীদের। সবরকমের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে তাঁদের। তবে নিউমোনিয়া বা সার্স অর্থাৎ সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমের মতো সংক্রমণ ধরা পড়েনি কারও শরীরেই। প্রথম দফায় ৩৪৮ জনকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাকিদের এখনও কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। তাঁর ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট এলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নয়া করোনাভাইরাস বা ‘সিওভিআইডি-১৯’ সংক্রমণের মাত্রা কমেছে বলেছে চিন দাবি করলেও মৃত্যু বাড়ছেই। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দু’হাজার। উহানেই গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৩২ জনের। ১,৬৯৩ জনের মধ্যে নয়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজার। চিনের বাইরে ৩০টি দেশে অন্তত ৭৮০ জনের সংক্রমণের খবর মিলেছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও বেশি করে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে উহানের একটি হাসপাতালের ডিরেক্টরের মৃত্যু হয়েছে গতকালই। সব মিলিয়ে প্রায় ১৭০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত। রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলিতেও।
উহানে এখনও আটকে রয়েছেন অনেক ভারতীয় পড়ুয়া। তাঁদের উদ্ধার করতে দ্বিতীয় দফায় বোয়িং পাঠানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামীকাল ২০ ফেব্রুয়ারি উহান থেকে ভারতীয়দের উদ্ধার করতে রওনা দেবে সি-১৭ সেনা এয়ারক্রাফ্ট। ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ গ্লোবমাস্টারে চাপিয়েউহানে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধার করা হবে।
ভারতীয় দূতাবাসের হিসেব অনুযায়ী, এখনও ৮০ থেকে ১০০ জন ভারতীয় উহানে আটকে রয়েছেন। এর মধ্যে সেই ১০ ভারতীয়ও রয়েছেন, যাঁদের গায়ে জ্বর থাকায় আগের বার বিমানে উঠতে পারেননি। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির মধ্যে শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশ তাঁদের দেশের বাসিন্দাদের এয়ারলিফ্ট করে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের ৮০০ থেকে ১০০০ জন হুবেইতেই আটকে রয়েছেন। নিজের দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি, অন্য দেশের নাগরিকদের উদ্ধার করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে ভারত।