দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশেষজ্ঞদের চিন্তা বাড়িয়ে দেশে ফের তাণ্ডব শুরু করল সোয়াইন ফ্লু। বছরের প্রথম মাসেই যার ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে ১৬৯ জনের। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। অন্তত সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষের রক্তে মিলেছে সোয়াইন ফ্লুয়ের ভাইরাস।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের রিপোর্ট বলছে, বছরের গোড়াতেই মহামারীর আকার নিয়েছে সোয়াইন ফ্লু। দেশজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। দিন কয়েকের জ্বর। সঙ্গে সর্দি-কাশি। ওষুধ খেয়ে শরীরের তাপমাত্রা কমলেও শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমছে না। বরং বাড়ছে। প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতেই কেটে যাচ্ছে আরও কয়েক দিন। ফলে সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়ে চিকিৎসা শুরু হতে অনেকটাই দেরি হয়ে যাচ্ছে। যার জেরে বিপদ বাড়ছে রোগীদের। বিশেষত, আক্রান্ত শিশুদের। এ রাজ্যে ইতিমধ্যেই সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ওই সমস্ত হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল শ’খানেক। যার অধিকাংশই শিশু।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের মধ্যে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রাজস্থান, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রে। জানুয়ারি ২৭ পর্যন্ত রাজস্থানে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭২ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা ১,৮৫৬। গুজরাটে মৃতের সংখ্যা ২০, আক্রান্ত ৫৭৬। মৃত্যুহারে এগিয়ে রয়েছে দিল্লি ও হরিয়ানা। সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৭৯ ও ৩৬৩।
২০০৯ সালের পর ২০১৫ সালে এই এইচ১এন১ ভাইরাস জাঁকিয়ে বসে দেশে। শুরুতেই জিনের বদল ঘটিয়ে যে এইচ১এন১ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছিল তার যথাযথ ওষুধ বার করতে পারেননি চিকিৎসকরা। ফলে ওই বছরই ৫০,০০০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এই ভাইরাসের সংক্রমণে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর সোয়াইন ফ্লুতে মৃতের সংখ্যা ছিল, ১,১০৩, এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৪,৯৯২ জন। চলতি বছরেও একই ভাবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগের সংক্রমণ।