দ্য ওয়াল ব্যুরো : কলকাতা থেকে কাজ করতে গিয়েছিলেন চেন্নাইতে। রক্তের ধারায় দেহ পাওয়া গেল ৩০ বছরের কে পিঙ্কির। চার বছরের বিবাহিত জীবনের পর গত বছরই ডিভোর্স হয় পিঙ্কির। এরপরেই চেন্নাইয়ে পার্লারে কাজ করতে চলে যান পিঙ্কি। মাঝেমাঝে সেখানকার একটি ট্যাটুর দোকানেও তাঁর আনাগোনা ছিল। সেখানে আলাপ হয়েছিল বেকার যুবক কৃষ্ণাণ বাহাদুরের সাথে। গত ৬ মাস ধরে তাঁরা চেন্নাইয়ের পশ্চিম আন্নানগরের এইচ ব্লকে একসাথে থাকছিলেন।
রবিবার রাতে ১০ টার পরে কৃষ্ণাণ বাড়ি ফিরে এসে পিঙ্কির দেহ বাথটবের কাছে পড়ে থাকতে দেখেন। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল জায়গাটা। তিনি সেই মুহূর্তে স্থানীয় থানায় ফোন করে পুরোটা জানান। তিরুমঙ্গলম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি কিলপৌক মেডিকেল কলেজ অ্যাণ্ড হসপিটালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পিঙ্কির মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাতের গভীর ক্ষত নজরে আসে পুলিশের। পুলিশ পিঙ্কিদের আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে, সেখানে দুজনকে দেখা যায় পিঙ্কিদের বাড়িতে ঢুকতে। কৃষ্ণাণ ফেরত আসার ঘণ্টাখানেক আগে তারা বেরিয়েও যায়।
কৃষ্ণাণ পুলিশকে জানান এরা বিকাশ শর্মা এবং বিকাশ কুমার। ওদের বাড়িও পশ্চিমবঙ্গেই। তবে কাজের সূত্রে থাকতেন ওই তিরুমঙ্গলম থানা এলাকাতেই। কৃষ্ণাণের কথা মতো সেই দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় পুলিশ। জেরাতেই জানা যায় তারা পিঙ্কির সাথে ফেসবুকে বন্ধুত্ব করেছিল, মাঝে মাঝে ট্যাটু পার্লারে তাদের সকলের দেখাও হত। রবিবার তারা পিঙ্কির বাড়িতে যখন আসে, সে সময় কৃষ্ণাণ কাজ খুঁজতে বাইরে গেছিলেন। পিঙ্কিকে তারা দুজনেই হাজার টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়! তাতে পিঙ্কি রাজি না হওয়ায় প্রথমে তাঁকে ওয়াশ বেসিনে ধাক্কা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, পরে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে বালিশ চাপা দিয়ে দম বন্ধ করে ফেলে দেওয়া হয় বাথটবের কাছে। পিঙ্কিকে খুন করার পরে তাঁর বাড়িতে থাকা সোনাদানাও তারা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। আপাতত এদের দুজনেরই ঠিকানা জেল হেফাজত।