দ্য ওয়াল ব্যুরো : মুম্বইয়ে (Mumbai) কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হসপিটালে মোট ১১০০ ছাত্রছাত্রী এমবিবিএস কোর্সে পড়াশোনা করেন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে ৩০ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। একটি সূত্রে খবর, যাঁরা করোনা পজিটিভ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২৮ জনই ভ্যাকসিনের দু'টি ডোজ নিয়েছিলেন। কোভিড আক্রান্তদের ২৩ জন এমবিবিএসের সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র। সাতজন প্রথম বর্ষের ছাত্র। আক্রান্তদের মধ্যে একজনকে সেভেন হিলস হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা অ্যাসিম্পটোম্যাটিক। তাঁদের কোয়ারান্টাইনে যেতে বলা হয়েছে।
মেডিক্যাল কলেজের ডিন হেমন্ত দেশমুখ বলেন, কলেজের বাকি ছাত্রদেরও কোভিড টেস্ট করা হচ্ছে। এখন রোজ ২০০ থেকে ২৫০ জনের টেস্ট করা হয়। গত কয়েকমাসে করোনা সংক্রমণ কমায় দেশের নানা প্রান্তে স্কুল-কলেজ খুলতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার খবরও শোনা যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহেই বেঙ্গালুরুর এক আবাসিক স্কুলের ৫০০ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৬০ জন কোভিড পজিটিভ হয়। তাদের মধ্যে দু'জনের শরীরে কোভিডের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। এরপরে ওই স্কুল ২০ অক্টোবর অবধি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন কোভ্যাক্সিন নিয়ে টানাপড়েন চলছে। ভ্যাকসিন পাসপোর্টে ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিনকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে কিনা সে নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি এতদিন অবধি। কিছুদিন আগেও ভ্যাকসিন নিয়ে সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট সহ নানা নথিপত্র জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ভারত বায়োটেককে। তাতেই মনে হয়েছিল বিদেশযাত্রায় এখনই কোভ্যাক্সিনে অনুমতি নাও মিলতে পারে। তবে সম্প্রতি হু-র তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাছাই করা ভ্যাকসিন তালিকায় নাম উঠতে পারে কোভ্যাক্সিনের।
ন্যাশনাল কমিটি অন ভ্যাকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের চেয়ারম্যান ডা. ভি কে পল বলেছেন, হু-র ভ্যাকসিন তালিকায় কোভ্যাক্সিনের নাম উঠলেই বিদেশযাত্রায় আর কোনও সমস্যা থাকবে না। পাশাপাশি, বিদেশে কোভ্যাক্সিন রফতানিও করতে পারবে ভারত বায়োটেক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার থেকে জরুরি ভিত্তিতে আবেদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত বায়োটেক। গত জুলাই মাসের গোড়ার দিকে হু-র শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন জানিয়েছিলেন, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে অনুমোদন পেতে পারে কোভ্যাক্সিন। তিনি বলেছিলেন, অনুমোদন পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থাকে। সুরক্ষাজনিত তথ্য, সম্পূর্ণ ট্রায়ালের তথ্য পেশ করতে হয় , এমনকি অনুমোদন পাওয়ার জন্য উৎপাদনের গুণমান সংক্রান্ত তথ্যও দিতে হয়। ভারত বায়োটেক জানিয়েছিল, তারা ক্লিনিকাল ট্রায়ালের যাবতীয় তথ্য পেশ করেছে। হু জানিয়েছে, ভারত বায়োটেকের পেশ করা সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্ভবত এ মাস শেষের আগেই কোভ্যাক্সিনে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।