
শেষ আপডেট: 22 September 2022 07:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ ছিল গ্রামের রাস্তা (road)। খানাখন্দে (potholes) ভর্তি সেই রাস্তায় প্রায়ই দুর্ঘটনা (accident) ঘটছিল। অভিযোগ করেও কোনও লাভ হচ্ছিল না। বিরক্ত গ্রামবাসীরা শেষমেশ আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে (gunpoint) রাতারাতি রাস্তা সারাতে বাধ্য করল কর্তৃপক্ষকে (authority)।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গুরুগ্রামের (Gurugram) নৌরংপুর গ্রামে। এই ঘটনায় ৩০ জনকে আটক (booked) করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ব্লক সমিতির প্রাক্তন চেয়ারম্যানও রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গুরুগ্রাম মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (জিএমডিএ) কর্মী ও আধিকারিকদের বন্দুক দেখিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে এক রাতের মধ্যে ৫০ মিটার রাস্তায় প্যাচওয়ার্ক করাতে বাধ্য করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্লক সমিতির ওই প্রাক্তন চেয়ারম্যানের নাম হোশিয়ার সিং।তিনিই পুরো ঘটনার মূল কাণ্ডারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি একটি পেট্রল পাম্পের মালিক বলে জানা গেছে। অভিযোগ, সেই পেট্রল পাম্পের সামনের খারাপ রাস্তা ঠিক করার জন্যই পুরো ঘটনাটি ঘটিয়েছেন তিনি। যদিও তাঁর দাবি, গত দু মাসে ওই এলাকায় অন্তত ২০টি পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই সমস্ত গ্রামবাসীরাই চাইছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব রাস্তা সরানো হোক। এর আগে একাধিকবার রাস্তা ঠিক করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি করেছেন হোশিয়ার সিং।
জিএমডিএর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সেক্টর ৭৮/৭৯ তে অন্য একটি রাস্তা সারাইয়ের কাজ চলছিল একজন বেসরকারি কন্ট্রাক্টরের অধীনে। সেই সময় আচমকাই ৩০ জন গ্রামবাসী আগ্নেয়াস্ত্র এবং লাঠি নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হয়। ভয় দেখিয়ে তাঁদের তাউরু রোডের একটি পেট্রল পাম্পের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। দুষ্কৃতীরা ৩টি মেশিন এবং নির্মাণকাজের জন্য রাখা অন্যান্য জিনিসপত্রও নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের দিয়ে জোর করে ৫০ মিটার রাস্তায় প্যাচওয়ার্কের কাজ করানো হয়।
হোশিয়ার সিং জানিয়েছেন, পুরো রাস্তাটিই খানাখন্দে ভরা। সারা বছর সেখানে জল জমে থাকায় কিছুদিন ছাড়াই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে একাধিকবার মৌখিক এবং লিখিতভাবে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করার পরেও জিএমডিএ কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি বলে দাবি তাঁর। তাই এইভাবে জোর করে রাস্তা সারাইয়ের কাজ করা ছাড়া তাঁদের আর কোনও উপায় ছিল না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনায় বিশেষ ভুল রয়েছে বলেও মনে করছেন না তিনি। তাঁর দাবি, 'আমাদের যদি গ্রেফতারও করা হয়, তাহলেও এবার থেকে গ্রামবাসীরা অন্তত রাস্তা দিয়ে নিশ্চিন্তে যাতায়াত করতে পারবেন। নিজেদের মানুষদের জীবন বাঁচানোতে ভুল কিছু নেই।'
ধৃত ৩০ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।
হাওড়ার রানিহাটিতে গাড়ি পরীক্ষার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা! লরির চাকায় পিষে মৃত ৩