
শেষ আপডেট: 29 September 2018 18:30
অবশ্য কখনওই আলুকে জাতে তোলেনি। তবে সুদূর লখনউ থেকে নবাবের হাত ধরে কলকাতায় এসে বিরিয়ানিতে এই নয়া সংযোজন শুধুমাত্র বাঙালির রসনাকে তৃপ্ত করতেই তৈরি। তার ব্যতিক্রম নয় অওধ রেস্তোরাঁও। খাস লখনউ নবাবি মহলের চাকচিক্য রেস্তোরাঁর আনাচ কানাচে, পরিবেশনের থালা-বাটিতে, রান্নার কৌশলে আর বাবুর্চিদের হাতের জাদুতে।
পুজোর সময় নতুন চমক তো থাকবেই, তবে প্রি-পুজোকেও নতুন আহ্লাদে ভরিয়ে দেবে অওধ। দেশপ্রিয় পার্কের ‘অওধ ১৫৯০’ মন ভরাবে অভিজাত সব বিরিয়ানি দিয়েই। রান, শাহি পায়া, কিমা, শিকারি কোয়েল, মুর্গ পর্দা, মাহি কোফতা বা মুলতানি বিরিয়ানি। আর বিরিয়ানি মানেই যে বাঙালির মুখে একটা চওড়া হাসি ফুটে ওঠে এটা কে না জানে।
খাস লখনউ শহর থেরে বাবুর্চি আনিয়ে রান্নার চল এখনও রয়েছে। দারুচিনি, লবঙ্গ ও এলাচের অনন্য ফ্লেভারে সুরভিত হলুদ ভাতের ফাঁকে ফাঁকে আলু ও মাংস গুঁজে হাঁড়িতে পুরে অওধ সটাইল হান্ডি বিরিয়ানি চাখতে চাখতেই পাতে চলে আসবে তুলতুলে গলৌটি কাবাব। চাইলেই কাকরি কাবাব, শাম্মি কাবাব, বটি কাবাব থেকে শিখ কাবাব-আপনার থালা আলো করবে।
চামচ আর প্লেটের সঙ্গে সন্ধি করে জগৎ-সংসার ভুলে যত খুশি কাবাব খান, কে বারণ করেছে! মাংসে অরুচি হলে মারকাটারি মাছেরও নানা পদ হাজির করবেন শেফেরা। মাহি চাপ, ঝিঙ্গা বিরিয়ানি, মাহি কোফতার নাম না শুনে থাকলেও জিভের সঙ্গে একটিবার পরিচয় করাতে ভুলবেন না। ঝালে-ঝোলে-অম্বলে জিভের আড় ভাঙতে বাঙালি মন একটু মিষ্টি মিষ্টি করেই। সেখানেও নিরাশ করেনি অওধ। ফিরনির সঙ্গে শাহি টুকরা আপনার রসনায় ঝড় তুলবেই।
খাস লখনউ শহরকে কলকাতায় এনে ফেলেছেন দুই কর্ণধার ভাই শিলাদিত্য ও দেবাদিত্য চৌধুরী। শুধু খাবারের প্লেট নয়, রেস্তোরাঁর অন্দরসজ্জাও সাজিয়ে তোলা হয়েছে নিখুঁত ভাবে লখনউ নবাবি রাজদরবারের আদলে। থালা, বাটির চাকচিক্যে নবাবি খানার স্বাদ, সঙ্গে মন মাতাবে আখতারির গান।
চ্যালেঞ্জটা এ বার কল্লোলিনী তিলোত্তমার রসিক খাইয়েদের দিকেই। পুজোর আর বাকি মাত্র ক’টা দিন। তাহলে শুরু হয়ে যাক পেটপুজোর লিস্টি বানানোর পালা।