দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েক মাসে হোয়াটস্অ্যাপে ভুয়ো খবর থেকে বেড়েছে নানা অপরাধমূলক ঘটনা। তাই ভুয়ো মেসেজে লাগাম টানতে এবং সচেতনতা বাড়াতে দেশের নানা জায়গায় বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করল হোয়াটস্অ্যাপ। বিশ্বের অন্যতম এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের তরফে জানানো হয়েছে, এই ক্লাস করলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেক বাড়বে।
ডিজিটাল এমপাওয়ারমেন্ট ফাউন্ডেশন(DEF)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন হোয়াটস্অ্যাপ কর্তৃপক্ষ। ভুয়ো বার্তা থেকে দেশের যেখানে যেখানে গণপিটুনি-সহ নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে, সেই সব স্পর্শকাতর এলাকাগুলিকে বেছে নিয়ে সেখানে ক্লাস শুরু করা হবে। এখনও অবধি ৪০টি ট্রেনিং সেশনের পরিকল্পনা করেছেন কর্তৃপক্ষ।
যেহেতু ভারতে এখনও অবধি হোয়াটস্অ্যাপের কোনও অফিস নেই, তাই এই কাজে তাদের সাহায্য করবে ডিজিটাল এমপাওয়ারমেন্ট ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। দেশের ১০টি রাজ্যে হবে এই বিশেষ ক্লাস। ডিইএফ সূত্রে খবর, তাদের সংস্থার প্রায় ৩০,০০০ সদস্যকে ইতিমধ্যেই সাতটি রাজ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ডিইএফ-এর কর্ণধার এবং ডিরেক্টর ওসামা মানজার বলেছেন, ‘‘আমাদের এই ওয়ার্কশপের মূল লক্ষ্য হল হোয়াটস্অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়িয়ে তোলা। প্রতিটি মেসেজ পাঠানোর আগে সেটার সত্যতা কী ভাবে যাচাই করতে হবে, ভুয়ো বার্তা ও কল থেকে কী ভাবে সাবধান থাকতে হবে এই সব কিছুই শেখানো হবে এই ক্লাসগুলিতে।’’
ডিইএফ আরও জানিয়েছে, এই ওয়ার্কশপগুলিতে পড়ুয়া, সরকারি কর্মচারি, প্রশাসনিক কর্তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাঁদের মাধ্যমেই সচেতনতার বার্তা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে। হোয়াটস্অ্যাপের পাবলিক পলিসি ম্যানেজার বেন সাপলের কথায়, এই ট্রেনিং সেশনের মূল উদ্দেশ্যই হল একটা শক্তপোক্ত কমিউনিটি গড়ে তোলা যারা ভুয়ো বার্তা ছড়ানো বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে গোটা দেশে অপরাধের সংখ্যা অনেক কমবে বলেই মনে করছেন তিনি।
গত কয়েক মাসে হোয়াটসঅ্যাপে গুজব ও ভুয়ো খবর ছড়ানোর জেরে মেঘালয়ের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দক্ষিণের কর্নাটক— দেশজুড়ে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন গণপিটুনিতে। মোবাইল অ্যাপটির বিপজ্জনক ভূমিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক বেশ কয়েক বার চিঠি পাঠায় হোয়াটসঅ্যাপকে। এই সপ্তাহের শুরুতেই ভারতে এসেছিলেন হোয়াটসঅ্যাপের প্রধান ক্রিস ড্যানিয়েলস। তাঁকেও ভুয়ো খবর নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ।
সারা পৃথিবীতে হোয়াটসঅ্যাপের ১৫০ কোটি ব্যবহারকারীর মধ্যে ২০ কোটিই ভারতে থাকেন। সামনেই ভারতের লোকসভা নির্বাচন। হোয়াটসঅ্যাপের বিশাল মঞ্চকে ব্যবহার করে অনেকেই এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাবে, এই সম্ভাবনা প্রবল। তাই তড়িঘড়ি দেশে এই বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে চলেছে হোয়াটস্অ্যাপ।