দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা বড় পাত্রে জল দিয়ে তাতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে ডিটারজেন্ট পাউডার। তার সঙ্গে মেশানো হচ্ছে প্যাকেট ভর্তি রাসায়নিক, তারপর মেশানো হচ্ছে অ্যারারুট। মিশছে আরও কিছু রাসায়নিক। ব্যস! আসল-নকল বোঝে আর কার সাধ্যি! এইভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল দুধের কারবার চলছিল মধ্যপ্রদেশের তিনটি কারখানায়। সেই দুধ আবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল আরও ছ'টি রাজ্যের নামী ব্র্যান্ডের কাছে। তদন্তে নেমে ওই তিনটি কারখানায় তালা লাগাল মধ্যপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টিম। কারখানাগুলির মালিক ও কর্মচারী-সহ গ্রেফতার করা হলো ৫৭ জনকে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোয়ালিয়র-চম্বল এলাকায় রমরম করে চলছিল এই ভেজাল দুধের কারবার। এসটিএফ রাজেশ ভাদোরিয়া জানিয়েছেন, মোরেনা জেলার অম্বা ও লাহর এলাকার ওই তিনটি ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ১০০০ লিটারের মতো ভেজাল দুধ, ৫০০ কেজি ভেজাল মেওয়া বা ক্ষীর এবং ২০০ কেজি ভেজাল পনির বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এসটিএফ রাজেশ জানিয়েছেন, মোট ২০টি ট্যাঙ্কার এবং ১১টি পিকআপ ভ্যানে সাজিয়ে এই সব কিছুই ভিন রাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার তোড়জোড় চলছিল। সঠিক সময়ে পৌঁছে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়। হাতেনাতে ধরা হয় ৫৭ জন ভেজাল দুধের কারবারিকে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই কারখানাগুলিতে দুধের সঙ্গে জল, বরিক পাউডার, সোডা, গুড়ো দুধ, ফর্মালিন, সোডিয়াম বাইকার্বনেট মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করা হত। সঙ্গে মিশত আরও নানা রাসায়নিক ও ডিটারজেন্ট। তারপর নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটে মুড়ে সেগুলি পৌঁছে যেত মধ্যপ্রদেশেরই অন্যান্য এলাকা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে।
সূত্রের খবর, যে দুধ তৈরি করতে লিটার প্রতি ৫টাকা খরচ হতো, সেই দুধই ৪৫-৫০ টাকা প্রতি লিটারে বেচা হতো উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম ভারতের নানা জায়গায়। ভেজাল পনির ১০০-১৫০ টাকা প্রতি কেজি দরে পৌঁছে যাচ্ছিল দেশের নানা জায়গায়। প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ লিটারের মতো ভেজাল দুধ তৈরি হতো এই তিনটি ইউনিটে। ধৃতদের জেরা করে তাদের বাকি শাগরেদদের খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।