দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমার করোনাভাইরাস টেস্টে পজিটিভ এসেছে। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই পোস্ট করেন গায়িকা কণিকা কাপুর। তাঁর সঙ্গে লখনউতে এক নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী বসুন্ধরা রাজে ও তাঁর ছেলে দুষ্যন্ত। কণিকার পোস্ট দেখার পরে তাঁরা নিজেরাই কোয়ারান্টাইনে গিয়েছেন।
অভিযোগ, লখনউয়ের ওই নৈশভোজে যাওয়ার পরে দুষ্যন্ত সংসদে যত্রতত্র ঘুরে বেড়িয়েছেন। তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন জানিয়েছেন, দুষ্যন্ত তাঁর পাশে আড়াই ঘণ্টা বসেছিলেন। তাই তিনিও গিয়েছেন কোয়ারান্টাইনে।
বসুন্ধরা টুইট করে বলেছেন, লখনউয়ে থাকাকালীন আমি, আমার ছেলে দুষ্যন্ত ও তার শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন এক নৈশভোজে গিয়েছিলাম। সেখানে কণিকা উপস্থিত ছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, কণিকার কোভিড-১৯ টেস্টে পজিটিভ এসেছে। আমরা একথা শোনার পরে নিজেরাই কোয়ারান্টাইনে চলে গিয়েছি।
অন্যদিকে ডেরেক ওব্রায়েন টুইট করে বলেন, "এই সরকার আমাদের সকলকে বিপদে ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী সকলকে বলছেন, নিজেকে আলাদা করে রাখুন, এদিকে পার্লামেন্ট চলছে। আমি একদিন দুষ্যন্তের পাশে আড়াই ঘণ্টা ধরে বসেছিলাম। সংসদের অধিবেশন আপাতত বন্ধ রাখা উচিত।"
একসময় শোনা গিয়েছিল নৈশভোজের উদ্যোক্তা ছিলেন কণিকা নিজেই। কিন্তু ৪১ বছর বয়সী গায়িকা সেকথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি উদ্যোক্তা ছিলেন না। তবে পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আরও কয়েকজন রাজনীতিক, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আমলা উপস্থিত ছিলেন। একটি সূত্রে খবর, পার্টিতে ছিলেন প্রায় ২০০ জন।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের নাগরিকদের কাছে আবেদন জানান, আগামী ২২ মার্চ জনতা কার্ফু পালন করুন। তিনি বলেন, "ওই সময় কেউ বাড়ি থেকে বেরোবেন না। কোথাও ভিড় করবেন না। কেবলমাত্র জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন রাস্তায় বেরোবেন।" প্রধানমন্ত্রীর মতে একদিন জনতা কার্ফু পালন করলে দেশের মানুষ অন্যদের থেকে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখতে শিখবে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের চারটি পর্যায় আছে। প্রথম পর্যায়ে বিদেশ থেকে আসা লোকজন ওই ভাইরাস বহন করে আনে। একমাত্র যারা বিদেশ থেকে আসছে, তারাই ওই রোগে আক্রান্ত হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে বিদেশ থেকে আসা লোকজনের সংস্পর্শে এসে তার আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতরা ওই রোগে আক্রান্ত হন। একে বলে লোকাল ট্রান্সমিশন। এতে অল্পসংখ্যক লোক আক্রান্ত হন। কীভাবে তাঁরা আক্রান্ত হলেন, তা সহজে বোঝা যায়।
তৃতীয় পর্যায়ে এক বিরাট এলাকা জুড়ে মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হয়। এই পর্যায়ে বোঝাই যায় না কোনও আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে কীভাবে সংক্রমণ ঘটল। ইতালি ও স্পেন এখন স্টেজ-থ্র-এ রয়েছে।
ফোর্থ স্টেজটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। এই পর্যায়ে দেশ জুড়ে কোভিড-১৯ মহামারী আকারে দেখা যায়। চিনে এখন তাই হয়েছে।