
শেষ আপডেট: 26 August 2023 10:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিজোরামের পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। মালদহের ২৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু, নাড়া দিয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। মৃতের পরিবারগুলো এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সেই ঘটনার মাঝেই সামনে এল দিল্লির পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) তিনজন রাজমিস্ত্রি কাজের সন্ধানে উত্তরপ্রদেশে গিয়েছিলেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁদের (3 migrant labourers electrocuted)।
জানা গেছে, মৃতদের নাম শুভঙ্কর রায় (৩১), ইসরাইল শেখ (৩৩) ও গোকুল মণ্ডল (৪৪)। মুর্শিদাবাদের প্রায় কাছাকাছি এলাকাতেই থাকতেন মৃত তিন শ্রমিক। দিল্লিতে একই জায়গায় কাজ করতেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে ইসরাইলের বাড়ি ফরাক্কা থানার অন্তর্গত ইমামনগর গ্রামে। বাকি দু'জনের বাড়ি সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান পুরসভা এলাকায়।
পরিবার সূত্রে খবর, মাস দু'য়েক আগেই উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে (Gaziabad) রাজমিস্ত্রির কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন তিনজন। সেখানেই একসঙ্গে কাজ করতেন, একই জায়গায় থাকতেন। রোজকার মতো শুক্রবারও রাজমিস্ত্রির কাজে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁদের।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন তিনজন। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তিনজন শ্রমিককে মৃত বলে ঘোষণা করা করেন। শনিবার সকালেই মৃত্যুর খবর পৌঁছয় মৃতদের গ্রামে। গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
উল্লেখ্য, গত বুধবার মিজোরামের রাজধানী আইজল থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে সাইরাং এলাকায় আচমকাই একটি নির্মীয়মাণ রেলব্রিজ ভেঙে পড়েছিল। সেই সময় সেখানে কাজ করছিলেন প্রায় ৩০-৩৫ জন শ্রমিক। দুর্ঘটনার জেরে প্রাথমিকভাবেই মৃত্যু হয় ১৭ জনের। তারপর আরও ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। জানা যায়, মৃতরা সকলেই বাংলার মালদহের বাসিন্দা। পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে সুদূর মিজোরামে কাজ করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখান থেকে আর বেঁচে ফেরা হল না তাঁদের। কফিনবন্দি ‘দেহ’ হয়ে বাড়িতে ফিরলেন তাঁরা। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যপাল। তাদের ক্ষতিপূরণের কথাও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: মেয়ে রাখি পরাবে কাকে? ফুটপাথবাসী মহিলার ১ মাসের ছেলেকে চুরি করল দম্পতি