দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার গভীর রাতে আমেরিকার টরেন্স নামে এক শহরের পুলিশ টুইট করে বলে, বোলিং অ্যালি থেকে গুলি চালানোর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশ। শহরবাসীর উদ্দেশে আবেদন, আপনারা ওই এলাকা থেকে দূরে থাকুন।
টরেন্স শহরটি লস এঞ্জেলিসের কাছেই। শনিবার সেখানকার পুলিশ জানিয়েছে, তিন জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত চার জন। তদন্ত চলছে।
লস এঞ্জেলিস টাইমস সংবাদপত্রে মন্তব্য করা হয়েছে, গ্যাবেল হাউস কমপ্লেক্স নামে এক গেমিং কমপ্লেক্সে গুলি চলেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, গুলি চলার আগে ব্যাপক মারপিট হয়েছিল।
টরেন্স শহরটি সাউথ বে রিজিয়নে, সমুদ্রের তীরে অবস্থিত। লস এঞ্জেলিস থেকে তার দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার।
গুলিতে মৃত্যুর সংখ্যা সারা বিশ্বে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি। সেদেশের স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সেদেশে গুলিতে ৪০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। তার মধ্যে আত্মঘাতী হয়েছেন অনেকে। ২০১৬ সালে গুলিতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনায় কম। ৩৩ হাজার ৬০০। ২০১৭ সালে পাওয়া একটি তথ্যে জানা যায়, আমেরিকায় ৪০ শতাংশ মানুষের কাছে বন্দুক আছে।
তদন্তমূলক সংবাদপত্র মাদার জোনসে প্রকাশিত খবর, ১৯৮২ সালে আমেরিকায় ৯০ বার ‘মাস শ্যুটিং’ হয়েছে। অর্থাৎ ৯০ বার বন্দুকবাজরা গুলি চালিয়েছে জনতার ওপরে।
২০১২ সাল অবধি আমেরিকায় কোনও বন্দুকবাজ এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে চার অথবা তার বেশি মানুষকে মেরে ফেললে তাকে ‘মাস শ্যুটিং’ বলা হত। ২০১৩ সাল থেকে নিয়ম হয়েছে কোনও বন্দুকবাজ গুলি চালিয়ে যদি তিন বা ততোধিক মানুষকে মেরে ফেলে, তাহলে ‘মাস শ্যুটিং’ বলা যেতে পারে। সশস্ত্র ডাকাতি বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে কেউ মারা গেলে তাকে ‘মাস শ্যুটিং’ বলা যায় না।
মাস শ্যুটিং-এর সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন ২০১৭ সালে নেভাদায়। মোট ৫৮ জন। তার আগের বছর ফ্লোরিডায় গুলিতে মারা গিয়েছিলেন ৪৯ জন। খুনোখুনিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় হ্যান্ডগান। এছাড়া ব্যবহৃত হয় রাইফেল, শটগান ও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র। অন্যান্য দেশের চেয়ে আমেরিকায় বন্দুকের দাম কম। মাত্র দেড়শ থেকে ২০০ ডলারের বিনিময়ে একটি বন্দুক কিনতে পাওয়া যায়।
আমেরিকায় অস্ত্র আইন নিয়ে কড়াকড়ি করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীরা। তাঁদের ধারণা, এত সহজে বন্দুক পাওয়া যায় বলেই খুনোখুনি হয় ঘন ঘন। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই দাবি মানতে রাজি নন।