দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন অনুমোদন করেছে বিশেষজ্ঞদের প্যানেল। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানালেন, প্রথম দফায় বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে ৩ কোটি মানুষকে। তাঁদের মধ্যে আছেন ১ কোটি স্বাস্থ্যকর্মী ও ২ কোটি সামনের সারির কোভিডযোদ্ধা। এদিন বিকালে হর্ষবর্ধন টুইট করে বলেন, "প্রথম দফায় জরুরি ভিত্তিতে ১ কোটি স্বাস্থ্যকর্মী ও ২ কোটি ফ্রণ্টলাইন ওয়ার্কারকে টিকা দেওয়া হবে। আরও ২৭ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে জুলাইয়ের মধ্যে। এক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবেন, জানানো হবে পরে।"
ভারতে প্রায় ১ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন ১ লক্ষ ৪৯ হাজার মানুষ। এই পরিস্থিতিতে অক্সফোর্ড -অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন 'কোভিশিল্ড' দেওয়া শুরু করার জন্য ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার কাছে সুপারিশ করেছে বিশেষজ্ঞদের প্যানেল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, "ড্রাগ কন্ট্রোলার ওই সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন শীঘ্রই।"
হর্ষবর্ধন জানান, ওই ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ। তিনি টুইটারে লিখেছেন, "ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও গুজব যেন না ছড়ায়। সবকিছুই পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এর আগে যখন পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছিল, তখনও অনেকে গুজব ছড়াত। কিন্তু সেই ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলে সভাই দেখল, তা নিরাপদ।"
টিকার বিতরণ কীভাবে হবে, ইঞ্জেকশন কীভাবে দেওয়া হবে, সংরক্ষণের ব্যবস্থা কেমন সেসব বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে নিতে শনিবার সকাল থেকেই দেশের সমস্ত রাজ্যে শুরু হয়েছে টিকাকরণের মহড়া তথা ড্রাই-রান।
এখনও অবধি জানা গিয়েছে, ১১৬টি জেলায় ড্রাই-রান শুরু হয়ে গেছে। ২৫৯টি শিবিরে টিকাকরণের মহড়া চলছে। জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে কেন্দ্রের টাস্ক ফোর্স।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের ইউপিএইচসি ৪, আমডাঙা ও সল্টলেকের দত্তাবাদে টিকার ড্রাই-রান হবে। কতজন স্বাস্থ্যকর্মী টিকাকরণের এই মহড়ায় যোগ দেবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য মেলেনি। করোনা টিকার প্রথম ড্রাই রান হয়েছে গত ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর। ওই দু’দিন অসম, পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ ও গুজরাতে টিকাকরণের পরীক্ষামূলক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ প্রায় ৫১৭টি জেলায় ড্রাই-রান চলবে বলে খবর।
প্রতিটি জেলাকে কয়েকটি জ়়োনে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনে তৈরি হয়েছে শিবির। ২৫ জন করে স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়ার মহড়া চলবে। টিকার ডোজ কাউকেই দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র ইন্ট্রামাস্কুলার বা পেশির নিচে ইঞ্জেকশন দেওয়া পদ্ধতি অভ্যাস করে দেখে নেওয়া হবে। তাছাড়া, টিকাকরণে কোনও সমস্যা হলে কীভাবে তা সামলে ওঠা যাবে, কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে কী করণীয় সে নিয়েও মহড়া চলবে আজ।