দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনজন তিন ধরনের কাজ করেন। ভাড়া নিয়ে থাকেন একই বাড়িতে। কাজের সূত্রে মহারাষ্ট্রের পুণেতে থাকা পশ্চিমবঙ্গের এই তিন যুবক নিজেদের মধ্যে কথা বলেন বাংলাতেই। কিন্তু এতেই বাঁধল বিপত্তি। বাংলায় কথা বলায় মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার স্থানীয় নেতারা ধরে নেন তাঁরা বাংলাদেশি। সেই সন্দেহেই এ রাজ্যের তিন যুবককে ফেলে পেটানো হল পুণের রাস্তায়। বিড়ম্বনা থেকে বাদ গেল না এই তিন যুবকের পরিবারও।
জানা গিয়েছে এই তিন যুবকের নাম দিলশাদ মনসুরি, রোশন শেখ ও বাপি সর্দার। ঘটনা কী? পুণের বালাজি নগরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন এই তিন যুবক। দু’দিন আগে সেখানে যায় রাজ ঠাকরের দল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার লোকজন। জনা পঞ্চাশ লোক গিয়ে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয় ওই তিন যুবককে। চলে মারধর। স্থানীয় এমএনএস নেতা হুঁশিয়ারির সুরে বলে দেন, কোনও বাংলাদেশিকে থাকতে দেওয়া হবে না।
এরপর ওই তিন যুবক তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, তাঁরা কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন। প্রত্যেকে ভারতীয়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বলে তাঁরা বাংলায় কথা বলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। হেনস্থা বাড়তে থাকে। আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে যায়। আসে পুলিশও। এরপর তিন যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় থানায়।
পুলিশের তরফে ওই তিন যুবককে বলা হয়, যে কোনও একজন বাড়িতে খবর দিক। রোশন হুগলির পাণ্ডুয়া ব্লকের বাসিন্দা। তিনি ফোন করেন তাঁর বৃদ্ধা মাকে। ফোনে রোশনের মা মহারাষ্ট্রের পুলিশকে জানান, তাঁরা ছেলের হুগলিতে বাড়ি। কিন্তু বিশ্বাস করেনি পুলিশ। মাকে বলা হয়, স্থানীয় থানায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের দিয়ে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত করাতে হবে। এত দূরে ছেলে আটক। বাধ্য হয়ে রোশনের মা ছোটেন পাণ্ডুয়া থানায়। পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ যোগাযোগ করে পুণের ওই থানার সঙ্গে। বলা হয়, রোশন এবং তাঁর মা হুগলির বাসিন্দা। এর বহুক্ষণ পর ধৃতদের মুক্তি দেয় পুলিশ।
এমএনএসের তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এটা রাজ ঠাকরের নির্দেশ। যদি পাকিস্তান বা বাংলাদেশের কোনও নাগরিক বেআইনি ভাবে বসবাস করে তাহলে তাদের উৎখাত করতে হবে। অনেকের মতে, শিবসেনা কংগ্রেস, এনসিপির সঙ্গে হাত মেলানোর পর রাজ ঠাকরের দল উগ্র মারাঠা আবেগকে পুঁজি করেই নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে। কিন্তু গোটা ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, ভিন্রাজ্যে বাঙালিদের নিরাপত্তা নিয়ে।