দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবৈধ খনিতে আটকে পড়া শ্রমিকরা কি আদৌ বেঁচে? খনির ভিতর থেকে পাওয়া পচা গন্ধের উৎস কি শুধুই জমে থাকা জল, নাকি মৃতদেহ পচে এমন গন্ধ বার হচ্ছে? শনিবার খনির ভিতর থেকে তিনটি হেলমেট উদ্ধার হওয়ার পর এই প্রশ্নগুলো আরও বেশি মাথাচাড় দিয়েছে। আটকে পড়া শ্রমিকদের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি বলেই জানিয়েছে রাজ্য বিপর্যয় ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের বাহিনীরা। শুক্রবারই ১০টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প নিয়ে ভুবনেশ্বর থেকে গুয়াহাটি পৌঁছেছে বায়ুসেনার বিমান। খনির নিচে নেমে উদ্ধারকাজের জন্য বিশাখাপত্তনম থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৌসেনার ১৫ জন ডুবুরিকেও। সব মিলিয়ে ফের তোলপাড় করে শুরু হতে চলেছে উদ্ধারকাজ।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বায়ুসেনার সঙ্গে গুয়াহাটিতে এসেছেন ন্যাশনাল ডিসাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) আরও ১০ সদস্য। ওড়িশা দমকল বাহিনীর প্রধান সুকান্ত শেট্টি বলেছেন, "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে ওড়িশা থেকে দমকলের বিশেষ বাহিনী নিয়ে আমরা মেঘালয়ে পৌঁছেছি। ২০ জন বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কর্মী ছাড়াও আমাদের সঙ্গে রয়েছে ১০টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হবে।" সূত্রের খবর, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। উদ্ধারকাজে কী ভাবে গতি আনা যায় সেই নিয়ে দু'তরফে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে জাতীয় পরিবেশ আদালত ওই খনি অবৈধ ঘোষণা করলেও খনন আটকানো যায়নি। গ্রামবাসীরা খনন করার যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে নিজেরাই ছোট ছোট গর্ত (র্যাট হোল মাইনিং) করে আকরিক তোলা শুরু করেন। এডিআরএফ সূত্রে খবর, ওই খনির কাছাকাছি এলাকায় এমন আরও একটি অবৈধ খনিমুখ রয়েছে। স্থানীয়েরাই কয়লা তোলার জন্য নানা জায়গায় এমন গর্ত খুঁড়ে রেখেছেন। ফলে, পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর জল ভিতরে ঢুকে জলস্তর আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ দিকে ২৫ হর্সপাওয়ারের যে দু'টি পাম্প দিয়ে খনি থেকে জল বার করার কাজ শুরু হয়েছিল সেগুলি অকেজো হয়ে পড়ায় মাঝে বেশ কয়েকদিন উদ্ধারকাজ বন্ধ ছিল। খনিতে জলস্তরও বেড়েছে আগের থেকে। তাই যত দিন যাচ্ছে আটকে পড়া ১৫ জন শ্রমিকের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ততটাই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।
এনডিআরএফ সূত্রে খবর, শনিবার খনির ভিতর নেমে ফের তল্লাশি শুরু হওয়ার পর তিনটি হেলমেট উদ্ধার হয়। মনে করা হচ্ছে এই হেলমেটগুলি ওই আটকে পড়া শ্রমিকদেরই। তবে ভিতরে কোনও মানুষের খোঁজ মেলেনি।