দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেটে গেছে দু’সপ্তাহেরও বেশি। অবশেষে গুয়াহাটি বিমানবন্দরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প নিয়ে পৌঁছল বায়ুসেনা। শুক্রবার সকালে পাম্পগুলি নিয়ে ওড়িশার ভুবনেশ্বর থেকে গুয়াহাটি বিমানবন্দরে পৌঁছেছে বায়ুসেনার বিমান। সেখান থেকে গাড়িতে চাপিয়ে ২২০ কিলোমিটার দূরে মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় লাগোয়ে খনি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে সেগুলি। খনির নিচে নেমে উদ্ধারকাজের জন্য বিশাখাপত্তনম থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৌসেনার ১৫ জন ডুবুরিকেও।
গত ১৩ ডিসেম্বর অবৈধ খনিমুখ থেকে কয়লা তুলতে গিয়ে ভিতরে আটকে পড়েন ১৫ জন শ্রমিক। পাশ দিয়ে বয়ে চলা লিটিয়েন নদী ও বৃষ্টির কারণে খনিতে ডল ঢুকে যাওয়ায় আর বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেননি আটকে পড়া শ্রমিকেরা। খনি থেকে জল বার করতে যে ২৫ হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি পাম্প ব্যবহার করছিলেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের বাহিনীরা সেগুলি কিছুদিন পরেই অকেজো হয়ে যায়। এর পরেই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প আনিয়ে নতুন করে উদ্ধারকাজ শুরুর জন্য টনক নড়ে প্রশাসনের। খবর যায় পাম্প প্রস্তুতকারী সংস্থা কির্লোস্কার ব্রাদার্স লিমিটেডের কাছে। এই বছরের জুলাই মাসেই তাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া কিশোর ফুটবলারদের উদ্ধারে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প পাঠিয়েছিল তারা। পাম্প পাঠাতে উদ্যোগী হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কোল ইন্ডিয়াও। আসানসোল ও ধানবাদের খনি থেকে শক্তিশালী পাম্প নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছচ্ছে তারা।
কোল ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, আটটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প নিয়ে রওনা দিয়ে দিয়েছে তারা। ছত্তিসগঢ়ে বিলাসপুর থেকে জয়ন্তিয়ায় যাচ্ছে আরও কয়েকটি পাম্প।
খনির প্রায় ৭০ ফুটের বেশি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নিচে নামতে সমস্যা হচ্ছে রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের। খনির ভিতরে শ্রমিকরা এখন কী অবস্থায় রয়েছেন, বা আদৌ বেঁচে রয়েছেন কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত নন কেউই। সম্প্রতি সুড়ঙ্গের জলে নেমে পচা গন্ধ পেয়েছেন ডুবুরিরা। যদিও তা মৃত মানুষের পচা গন্ধ নাকি জমে থাকা জল পচে ওই দুর্গন্ধ তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এনডিআরএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্যান্ডার সন্তোষ কুমার সিং বলেন, গুহার ভিতর থেকে পচা গন্ধ আসছে বলেই ধরে নেওয়া যায় না যে, খনিশ্রমিকদের কেউ কেউ মারা গিয়েছেন। ওই গন্ধ মৃতদেহের নাও হতে পারে। খনিতে বেশ কয়েকদিন ধরে জল জমে আছে। জমা জল থেকেও দুর্গন্ধ আসা অসম্ভব নয়।