
শেষ আপডেট: 27 November 2018 18:30
আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ দ্বীপে নিয়ে যেতে মৎস্যজীবীদের ২৫ হাজার দিয়েছিলেন মার্কিন পর্যটক, কী ঘটেছিল ওই দিন?
ভ্যাঙ্কুভারের বাসিন্দা জল অ্যালেন চাও ছিলেন অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়। স্থানীয় গির্জার যাজক, নেশায় ভবঘুরে। বিশ্বের নানা দুর্গম জায়গায় পাড়ি দেওয়ার অভিলাষ ছিল তাঁর। ঘন ঘন যাতায়াত ছিল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। কারণ ভারতের এই অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে উপজাতি অধ্যুষিত নানা দ্বীপ, যাদের বেশিরভাগই বিপজ্জনক ও রহস্যে ঘেরা। বিপদকে আলিঙ্গন করতে ভালোবাসতেন জন। তাঁর বন্ধু ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের শেষতম এই আদিম জনজাতি সেন্টিনেলিজদের সঙ্গে ভাব জমানোই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। আরও একটা বড় কারণ ছিল এই প্রজাতির সঙ্গে যেচে আলাপ করার। সেটা হল সেন্টিনেলিজদের খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করা। তাদের প্রভু যীশুর কথা শোনাতেই সে দিন বাইবেল নিয়ে দ্বীপে প্রবেশ করেছিলেন তিনি।
https://www.instagram.com/p/Bqcidjnhz7Z/?utm_source=ig_web_copy_link
‘জন শহীদ হয়েছেন’, ইনস্টাগ্রামে ছবি দিয়ে লিখেছেন জনের এক বন্ধু। তাঁর কথায়, ছোট থেকেই সাহসী ও বেপরোয়া ছিলেন জন। নিজেকে ‘স্নেক বাইট সারভাইভর’ বলতে ভালোবাসতেন। অজানাকে জানা আর বিপদকে দু’হাতে আঁকড়ে ধরার মধ্যেই ছিল তাঁর আনন্দ। ফুটবল খেলতে ভালোবাসতেন। কোচ হিসেবে স্থানীয় ক্লাবে ফুটবলের প্রশিক্ষণও দিয়েছেন দীর্ঘদিন। ২০১৪ সালে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় লিখেছিলেন, ‘‘আমি আর আমার ভাই বাড়ির পিছনের বাগানে গিয়ে উপজাতিদের মতো মুখে নানা রঙ ও ছবি আঁকতাম। ব্ল্যাকবেরির রস দিয়ে ট্যাটু করতাম। কাঠি ঘষে তীর-ধনুক বানিয়ে খেলতে ভালোবাসতাম আমরা।’’ চেনা গণ্ডির বাইরে অচেনা পৃথিবীকেই নিজের ঘরবাড়ি মনে করতেন তিনি। তাই ব্যাগ কাঁধে প্রায়ই বেরিয়ে পড়তেন অ্যাডভেঞ্চারের নেশায়।
আরও পড়ুন: ‘আমার চপারের দিকে উড়ে আসছিল তীর’, নর্থ সেন্টিনেলে ২০০৬ সালের অভিজ্ঞতার কথা বললেন কমান্ড্যান্ট
অতীতে নাকি মোট পাঁচ থেকে ছ’বার আন্দামান ঘুরে গেছেন জন। নৌকায় চেপে মৎস্যজীবীদের এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি। প্রতি বারই আন্দামানে এসে সেন্টিনেলে ঢুঁ মারার চেষ্টা করেন। তবে সরকারি নির্দেশিকার কড়াকড়িতে সেই সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এ বারই পঁচিশ হাজার টাকা দিয়ে সাত মৎস্যজীবীকে রাজি করিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। উপজাতিদের উপহার দেওয়ার জন্য মাছ ধরার জাল ও ফুটবলও রেখেছিলেন নিজের সঙ্গে।
আরও পড়ুন: কোথায় পোঁতা মার্কিন পর্যটকের দেহ? নর্থ সেন্টিনেল ঘিরে পুলিশ, নৃতত্ত্ববিদ, আদিবাসী বিশেষজ্ঞেরা
কোথায় রয়েছে মার্কিন পর্যটকের দেহ? মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও উপায় খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ থেকে নৃতত্ত্ববিদের দল। আদিবাসী বিশেষজ্ঞ ও নৃতত্ত্ববিদের একাংশের ধারণা বালি থেকে জনের দেহাংশ তুলে সেটিকে বাঁশের সঙ্গে বেঁধে সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড় করিয়ে রেখেছে উপজাতিরা। সৈকতেরই কোনও অংশে কাকতাড়ুয়ার মতো রাখা রয়েছে সেই দেহ। দ্বীপের চৌহদ্দির বাইরে দিবারাত্র ঘাঁটি গেড়েও তার খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ বাহিনী। অথচ দ্বীপে পা রাখা মানেই নিশ্চিত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা। বিশ্বের শেষতম এই আদিম জনজাতির উপর তো আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োগ সম্ভব নয়, আবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তাও বন্ধ। রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক দীপেন্দ্র পাঠক জানিয়েছেন, স্থানীয় ও আদিবাসী বিশেষজ্ঞদের সাহায্য সেন্টিনেলিজদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে।