দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ ভাবেও সোনা পাচার সম্ভব! কখনও জুতোর সোলে, কখনও টেপ দিয়ে শরীরের মধ্যে জড়িয়ে, কখনও ট্রলির চাকায় আবার কখনও সোনা গলিয়ে মলের মতো আকার দিয়ে অন্তর্বাসে পুরে— নানা উপায় সোনা পাচারের উদাহরণ ভূরি ভূরি। মলদ্বারে সোনা ঠেসেও পাচারের নিদর্শন কিছু কম নেই। তাও এমন ভাবে? আর এত সোনা? যুবককে পাকড়াও করে তাজ্জব শুল্ক দফতরের দুঁদে অফিসাররাও।
বিদেশি ট্রলি ব্যাগ হাতে কেতাদুরস্ত পোশাকের যুবককে দেখেই সন্দেহটা গাঢ় হয় জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) কর্তাদের। সবই ঠিক আছে, তবে যুবকের চলার ধরন একটু অন্য রকম ঠেকছে না! খানিক ঝুঁকে, কখনও খুঁড়িয়ে, কখনও দেহটা আগু পিছু করে একটু ঝাড়া দিয়ে আবার চলার চেষ্টা। দেখে মনে হবে, হয় প্রকৃতির ডাক চেপে রেখে সে দ্রুত গতিতে চলার চেষ্টা চালাচ্ছে, নয়তো কোনও তীব্র শারীরিক অস্বস্তি লুকোবার চেষ্টা করছে।
এ সব লক্ষণ বিলক্ষণ চেনা সিআইএসএফের। বিমানবন্দরে পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে এবং পাচারের ধরনে এতটাই নতুনত্ব এসেছে যে, পাচারকারীর সামান্য অসতর্ক মুহূর্তও কড়া নজরে রাখার চেষ্টা করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। সেখানে এই যুবকের চলার ধরন এবং হাবভাবই বলে দিচ্ছে সে কিছু গোপন করছে। পত্রপাঠ যুবককে পাকড়াও করে জেরা শুরু করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। নাম পঙ্কজ সাধুওয়ানি। বয়স বছর ত্রিশ। থাই এয়ারওয়েজের বিমান চেপে জয়পুরে এসেছে সে। খবর যায় শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের কাছে।
প্রথমে মুখে কুলুপ আঁটলেও শেষে সিআইএসএফ ও শুল্ক আধিকারিকদের সাঁড়াশি চাপে ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়ে বেড়াল। সোনার বার! আর সোনাও কিছু কম নয়। মোটা মোটা ছ’খানা সোনার বার। ওজনে প্রায় এক কিলোগ্রাম। বেশি ছাড়া কম হবে না। পায়ুদ্বারে সেই সোনা ঠেসে চলতে গিয়েই যুবকের নাস্তানাবুদ অবস্থা। বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষারত এক শাগরেদের কাছে সোনা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল তার। সেই শাগরেদকে না পেলেও পঙ্কজকে গ্রেফতার করেছেন শুল্ক আধিকারিকরা। বাজেয়াপ্ত হয়েছে সোনার বারগুলি। তাকে জেরা করে পাচারচক্রের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
সিআইএসএফের সূত্র ও সাম্প্রতিক নানা ঘটনা বলছে, ভারতে দিন দিন সোনা পাচারের ঘটনা লাগামছাড়া হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করলেও পাচার রোখা যাচ্ছে না কিছুতেই। বরং নিরাপত্তা অফিসারদের চোখে ধুলো দিতে তাল মিলিয়ে পাচারকারীরা বেছে নিচ্ছে পাচারের অভিনব পদ্ধতি। জয়পুর বিমানবন্দরের এই ঘটনা ফের তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।