ছাল ছাড়িয়ে নুন মাখিয়ে সেদ্ধ, বা কড়া করে রোস্ট, অসমের এই গ্রামের সেরা ডেলিকেসি ইঁদুর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেবারেই মজা নয়! খাঁটি সত্যি কথা। অসমের এই গ্রামে ভোজের থালায় সেরা পদ ইঁদুরের গরম ঝোল বা ইঁদুর সেদ্ধ। রোস্ট করে বা সব্জি দিয়ে তরকারি বানিয়েও পাত পেড়ে ইঁদুরের ঝাল-ঝোল-অম্বল চেটেপুটে খান গ্রামবাসীরা। এক কিলোগ্রাম ইঁদুরের মাং
শেষ আপডেট: 25 December 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেবারেই মজা নয়! খাঁটি সত্যি কথা। অসমের এই গ্রামে ভোজের থালায় সেরা পদ ইঁদুরের গরম ঝোল বা ইঁদুর সেদ্ধ। রোস্ট করে বা সব্জি দিয়ে তরকারি বানিয়েও পাত পেড়ে ইঁদুরের ঝাল-ঝোল-অম্বল চেটেপুটে খান গ্রামবাসীরা। এক কিলোগ্রাম ইঁদুরের মাংসের দাম ২০০ টাকা।
চিকেন-মাটন-পর্ক কোথায় লাগে। নাক সিঁটকে যতই আপত্তি জানান, অসমের কুমারিকাটা গ্রামের সেরা ডেলিকেসি কিন্তু ইঁদুরই। শুধু খাবার হিসেবে নয়, ইঁদুরের মাংস বেচেও পেট চালান এখানকার মানুষজন। সকালের হাট হোক বা সান্ধ্য বাজার, রমরম করে চলে ইঁদুর বিক্রি। নেংটি থেকে ধেড়ে ইঁদুর—সমস্ত ভ্যারাইটি রয়েছে। শুধু, দেখেশুনে বেছে নিলেই হল। চামড়া সমেতও পাবেন, আবার চাইলে ছাল ছাড়িয়ে পরিস্কার করেও ভরে দেওয়া হবে আপনার ঝোলায়। দামটা ঠিকঠাক দিলেই হল। এক দর, এক কেজি ইঁদুরের দাম ২০০ টাকা।
রান্নার ধরনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। কারওর পছন্দ সিদ্ধ, কোনও ঘরে আবার চামড়া সমেতই মশলা দিয়ে ইঁদুর কষার চল। একটু বিদেশি স্টাইলে কোনও কোনও গ্রামবাসী আবার মশলার খরচ বাঁচিয়ে আগুনে সেঁকে কড়া করে রোস্ট বানিয়ে নেন। সেটাই যেন অমৃত। তরকারি বানিয়েও খেতে ভালোবাসেন অনেকে।

কুমারিকাটা গ্রামে বেশিরভাগই আদিবাসী। কারও পেশা চাষাবাদ, কেউ বা চা বাগানের শ্রমিক। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তাই হাতের কাছে যা পাওয়া যায় সেটাই তাদের উদরপূর্তির সেরা উপায়। সেখানে বাছ বিচারের কোনও জায়গা নেই। গ্রামবাসীদের কথায়, বেশিরভাগ ইঁদুর ধরা হয় চাষের জমি থেকে। ফসল পাকলে জমিতে ভিড় জমায় বড় বড় মেঠো ইঁদুরের দল। শস্য নষ্ট করে চাষের ক্ষতি করে তারা। জাল পেতে সেইসব ইঁদুর ফটাফট বস্তাবন্দি করে ফেলেন চাষীরা। তার পর বেচে দেন হাটে। চা বাগান থেকেও ধরা পড়ে অজস্র ইঁদুর। সেই সবও চালান হয়ে যায় বাজারে। ইঁদুর বিক্রি করে দু’পয়সা আয় হয় গ্রামবাসীদের।
‘‘সকাল থেকেই ইঁদুর নিয়ে বেচতে বসি। ভালো দামেই বিক্রি হয়,’’ ইঁদুর বিক্রেতা সম্বা সোরেনের মুখে তৃপ্তির হাসি। বললেন, ‘‘ফসল পাকার সময়টাই আমাদের ইঁদুর ধরার মরসুম। রাতে জমিতে ফাঁদ পেতে বসে থাকি। অনেক ইঁদুর ধরা পড়ে।’’ বাঁশ কেটে তৈরি হয় ফাঁদ। একবারে অনেকগুলো ইঁদুরকে ফাঁদে ফেলার জন্য একটু বড় করেই বানানো হয় বাঁশের খাঁচা। ভিতরে খাবারের টোপ দিয়ে একটা ছোট মতো গর্ত থাকে। ইঁদুর ভিতরে উঁকি দিলেই কেল্লাফতে। তা ছাড়া, ইঁদুরের গর্ত খুঁজে সেখানেও টোপ দেওয়া হয়।
এক এক দিনের বিক্রি ১০ থেকে ২০ কেজি, এমনটাই জানালেন আর এক ইঁদুর বিক্রেতা। আদিবাসী মানুষজনের উপার্জনের সেরা উপায়ও আবার পেট চালানোর মাধ্যমও। তবে ইঁদুর হতে হবে টাটকা। খাঁচা থেকে সটান যাবে রান্নার কড়াইয়ে। বাসি ইঁদুরে মোটেও রুচি নেই গ্রামবাসীদের।