দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল তখন ৮টা। বাজারের রাস্তায় আস্ত একটা চিতাবাঘকে ঘুরে বেড়াতে দেখে ঘুম উড়ে যায় এলাকাবাসীর। বাঘ তখন বহাল তবিয়তে বাজার রাস্তা ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছি। ঝাঁপিয়ে পড়ে আঁচড়ে কামড়ে জখমও করেছে পাঁচ জনকে। শুক্রবার সকালে নাসিকের সাভারকরনগরের গঙ্গাপুর রোডে ঘণ্টা খানেক দাপিয়ে বেড়ায় একটা পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কয়েকটা বাড়ির জানলা বেয়ে ওঠারও চেষ্টা করছিল বাঘ। কিছু বাড়ির খোলা বারান্দাতেও উঠে যায়। আতঙ্কে দরজা-জানলা সেঁটে লোকজন ছাদে উঠে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বন দফতরের কর্মীরা। পুলিশ ও দমকলেও খবর দেন এলাকাবাসীরা। দুপুরের দিকে প্রায় দু-তিন ঘণ্টার চেষ্টায় বাঘ ধরতে সক্ষম হন বনকর্মীরা। বনদফতরের এক কর্মীর কথায়, "বাঘ দেখে চিৎকার শুরু করে দিয়েছিলেন এলাকার লোকজন। তাতেই আরও বেশি খেপে যায় বাঘ। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় জাল ফেলে ধরতে পারা যায় তাকে।"
বাঘের আক্রমণে গুরুতর জখম হন দুই সাংবাদিক কপিল ভাস্কর ও তাবরেজ শেখ। গলায় ও ঘাড়ে ৪০টি সেলাই হয়েছে কপিলের। তিনি এখনও চিকিৎসাধীন। চিতাবাঘের থাবার ঘায়ে জখম তাবরেজও। পায়ে গভীর ক্ষত নিয়ে তিনিও চিকিৎসাধীন। তা ছাড়া কর্পোরেট সংস্থার কর্মী সন্তোষ গায়েকোয়ার-সহ জখম হয়েছেন আরও দু'জন।
"আমি তখন বাগানে মেডিটেশন করছিলাম। দেখি বাগানের পাঁচিলের উপর ওঠার চেষ্টা করছে একটা প্রাণী। প্রথমে ভেবেছিলাম কুকুর, পরে দেখি চিতাবাঘ। কোনও রকমে বেঁচেছি," বলেছেন হেমা কালে। সকালে তিনিই প্রথম বাঘ দেখে সকলকে খবর দেন।
বন দফতরের শীর্ষ কর্তা বিজয় শেলকের কথায়, "শিকারের খোঁজেই জনবহুল এলাকায় ঢুকে পড়ে বাঘটি। আমরা এলাকাবাসীকে বলেছি আতঙ্কিত না হতে। জখমদের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে। "