
শেষ আপডেট: 21 March 2025 17:40
সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং
কেউটের ছোবলে অসুস্থকে বাঁচাতে দু’লিটার দুধ ও আড়াইশো গ্রাম আদা খাওয়াল ওঝা! জিভ পুড়ে কালো হয়ে যায় অসুস্থ যুবকের। মরণাপন্ন অবস্থায় শেষপর্যন্ত তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন পরিজনেরা। ডাক্তাররা সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু করায় কোনওমতে প্রাণে বাঁচলেন বাসন্তীর যুবক কার্তিক সরদার।
বৃহস্পতিবার ধান খেতে কীটনাশক প্রয়োগ করার জন্য গিয়েছিলেন উত্তর মোকামবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কার্তিক। সেই সময় তাঁর ডান পায়ে একটি কেউটে সাপ ছোবল মারে। সাপটি দেখতে না পেলেও তার লেজ দেখতে পান তিনি। তড়িঘড়ি বাড়িতে ফিরে আসেন। পরিবার লোকজনকে জানাতেই পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যান তাঁকে। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে চলে ওঝার দাদাগিরি।
ঝাড়ফুঁকের পাশাপাশি ওঝার পরামর্শে ওই যুবককে প্রথমে গাছ-গাছড়ার শিকড় খাওয়ানো হয়। এরপর ওঝার নির্দেশে খাওয়ানো হয় ২ লিটার দুধ ও আড়াইশো গ্রাম আদা! এদিকে ততক্ষণে কার্তিকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। বেগতিক বুঝে ওঝা হাল ছেড়ে দেন। এরপর কার্তিককে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ওঝার পরামর্শে আবারও দুধ খাওয়ানো শুরু করেন! একদিকে সাপের বিষ আর অন্যদিকে দুধ আর আদা! ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করে কার্তিকের পরিস্থিতি।
বেগতিক বুঝে তড়িঘড়ি পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। ততক্ষণে ৬ ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গিয়েছে। রাতেই ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকদের তৎপরতায় শুরু হয় চিকিৎসা। তড়িঘড়ি আক্রান্তকে সাপে কামড়ানো প্রতিষেধক ৩০ ভায়াল এভিএস দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের তৎপরতায় মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরলেও এখনও তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক।
ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ সমরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, "এবার নতুন ঘটনার আবির্ভাব হয়েছে। সাপে কামড় দিলে দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। যেটা একেবারেই বুজরুকি। পাশাপাশি পরিমাণ মতো আদা খাওয়ানো হচ্ছে। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। সাপে কামড় দিলে গাছ-গাছড়া, দুধ কিংবা আদা খাওয়ালে সারবে না। বরং মারা যাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। প্রয়োজন এভিএস। সাপ ছোবল দিলে সরাসরি নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। সেক্ষেত্রে রোগী ১০০ভাগ সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরবেন।" সাক্ষাৎ মৃত্যুমুখ থেকে স্বামীকে ফিরে পেয়ে চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্ত্রী রেখা সর্দার।