
স্থলভাগের দিকে এগোচ্ছে দানা
শেষ আপডেট: 24 October 2024 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: ক্রমেই স্থলভাগের দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় দানা। কয়েক ঘণ্টার মধ্য়েই আছড়ে পড়বে ভিতরকণিয়া ও ধামরা এলাকায়। প্রভাব পড়বে সুন্দরবনেও। তাই গত দুদিন ধরে এলাকাবাসীদের সতর্ক করতে প্রচারে নেমেছে প্রশাসন। মাইকে চলছে প্রচার। নদীবাঁধগুলো মেরামতের কাজও চলছে জোরকদমে। ঘূর্ণিঝড় 'দানা'র প্রভাবে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে।
সুন্দরবন এলাকায় ভোর ৫টা থেকে লাগাতার মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। বেলা যত বাড়ছে বৃষ্টির পরিমাণ তত বাড়ছে। সঙ্গে বইছে ঝড়ো হাওয়া। এতে আতঙ্কিত সুন্দরবনের নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। আকাশের ক্রমশ কালো মেঘে ঢাকছে। নদীতে দেখা যাচ্ছে জলোচ্ছ্বাস। সন্দেশখালি এলাকায় সকাল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। হিঙ্গলগঞ্জে বৃষ্টি হচ্ছে। তারমধ্যেই মাইক প্রচার করে চলেছে এনডিআরএফের কর্মীরা। আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি পরিষেবা। ইমারজেন্সি সার্ভিস ছাড়া আর কোনও ভাবে ফেরি চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না।
সুন্দরবন লাগোয়া ব্লকগুলো সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জ সহ মোট ছটি ব্লক থেকে ৫,৩২৬ জনকে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এখনও অনেকে ঘরবাড়ি আঁকড়ে গ্রামেই পড়ে রয়েছে। প্রশাসন তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, সমস্ত কিছু ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্র যাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রতিবছর তাঁর দুর্যোগের শিকার হন। প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় কেন্দ্র ওঠেন। কিন্তু এদিনে ঘরবাড়ি সমস্ত কিছুই ভাসিয়ে নিয়ে যায় নদী। কিন্তু প্রশাসন তাঁদের দুর্দশার দিকে তাকায় না। দিনের পর দিন তাঁদের আশ্রয় কেন্দ্র কাটাতে হয়। ত্রিপল ত্রাণ নিয়েও চলে দুর্নীতি। তাই দুর্যোগ আসুক। খড়কুটো বাঁচাতে তাঁরা গ্রাম ছাড়বে না।
ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জেলায় লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে। গঙ্গা দুই প্রান্তের ফেরিঘাট ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রশাসনের। তাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল করছে না। শুনশান হয়েছে ঘাট।
ঘূর্ণিঝড় ডানার মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা জারি করেছে পূর্ব রেল দফতর। বারাসাত কারসেট চত্বরে মালগাড়িগুলিতে মোটা শিকল দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বনগাঁ-বসিরহাট শাখায় স্বাভাবিকের থেকে কম সংখ্যক লোকাল ট্রেন চলছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাত আটটার পর থেকে আগামীকাল সকাল দশটা পর্যন্ত সমস্ত রকম লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকে।