
সুভাষচন্দ্র দাস
শেষ আপডেট: 6 September 2024 16:03
পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সেই ছোট থেকেই। কোনও বাধাই তাই বাধা হয়নি। একসময় পড়াশোনার খরচ জোটাতে কলেজে যাওয়ার সময় ট্রেনে জুতো সেলাই ও জুতো পালিশ করতেন। তবে ইতিহাস নিয়ে এমএ পাশ করার পরেও বের হতে পারলেন না সেই জীবিকা থেকে। এমএ র পর বিএড ও করেছেন। কিন্তু এখনও রাস্তার পাশে বসে জুতো পালিশ করেন এমএ, বিএড পাস করা সুভাষচন্দ্র দাস।
সুভাষ জানান, ২০১৬ সালের উচ্চ প্রাথমিকের টেট পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর আইনি জটে আটকে গেছে নিয়োগ। তাঁর কথায়, "বাড়ির অবস্থা বরাবরই খুব খারাপ। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর টিউশন করতাম। কলেজে আসার সময়টুকু বাড়তি রোজগারের জন্য ট্রেনে জুতো পালিশ করতাম। এখন সংসার চালাতে পুরনো সেই অভ্যেসেই ফিরে যেতে হল আবার। স্কুল শিক্ষকের চাকরিটা হয়েও হল না এখনও। কী করব জানি না।"
উচ্চশিক্ষিত যুবকটিকে এলাকায় সকলে চেনেন। সেই সূত্রে কিছু ছাত্রও পড়ান। তাতে অবশ্য খরচ ওঠে না। তাই জুতো পালিশ জারি রাখতে হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের সুন্দরবনের গোবিন্দকাটি গ্রামের বাসিন্দা সুভাষচন্দ্র দাস।জানালেন,পড়াশোনার জন্য বারাসতে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। কিন্তু খরচ চালাতে জুতা সেলাই ও পালিশের কাজ করেন জানতে পেরে অন্য জায়গায় থাকার কথা বলে দেন বাড়ির মালিক। তারপরের বেশ কয়েকদিন প্ল্যাটফর্মেই রাত কাটে।
জানতে পেরেছেন, পুজোর আগে টেটের জট কাটতে পারে। এবার কী তবে সুদিন ফিরবে? এখন সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন সুভাষ।