
দেড় মাস আগে ধর্ষণ, বাড়ি থেকে মিলল নির্যাতিতার দেহ
শেষ আপডেট: 13 October 2024 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: ধর্ষণের শিকার এক 'নির্যাতিতার' দেহ পাওয়া গেল বাড়ির দোতলার ঘর থেকে। এই ঘটনার পরে কলকাতা পুলিশে কর্মরত এক গাড়িচালক, তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা, সহ নির্যাতিতার স্বামীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মৃতার দাদার অভিযোগের ভিত্তি ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে হাবরা থানা এলাকায়।
মৃতার দাদার জানিয়েছেন, ওই মহিলা তৃণমূল পঞ্চায়েত মেম্বারের বাড়িতে থাকতেন। পঞ্চায়েত মেম্বারের স্বামী কলকাতা পুলিশে কর্মরত। নির্যাতিতার স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক। তাই বেশিরভাগ সময়ে বাড়ি থাকতেন না।
দেড়মাস আগে মহিলার স্বামী বাড়ির বাইরে ছিল। অভিযোগ, সেই সময় পঞ্চায়েত মেম্বারের স্বামী মহিলার ঘরে তাঁকে ঢুকে ধর্ষণ করে। পুলিশ অভিযোগ জানালে হেনস্থার শিকার হয় ওই বধূ। মেডিক্যাল পরীক্ষা করাতে গেলেও, সেখানে তাঁকে একাধিকবার পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বলে নির্যাতিতার দাদা অভিযোগ করেছেন।
নির্যাতিতার দাদার আরও দাবি, থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নির্যাতিতা। কিন্তু পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি। এদিকে ওই মহিলার কাছে হুমকি আসতে থাকে।
মৃতার বাপেরবাড়ির আরও অভিযোগ," ঘটনার পরে মেয়েকে তাঁর স্বামী বাড়ি ফেরাতে চাইনি। দেড় ধরে মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছিল সে। শুক্রবার মাঝরাতে বাড়ি দোতলা ঘরে ঝুলন্ত দেহ মেলে।"
সমস্ত ঘটনায় পুলিশের তরফে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত জয়ন্ত বিশ্বাস ও পঞ্চায়েত সদস্যা সঞ্চিতা বিশ্বাস এবং মৃতার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মহিলার দাদার দাবি, "পঞ্চায়েত মেম্বার, তাঁর স্বামী জয়ন্ত ও নির্যাতিতার স্বামী চক্রান্ত করে তাঁর বোনকে খুন করেছে।" যদিও একথা মানতে নারাজ মৃতার নাবালক ছেলে। তার দাবি, "বাবা মাকে খুব ভালোবাসত। ওই সব হওয়ার পরে মাকে হুমকি দিত ওই পঞ্চায়েত মেম্বার। তাই মানসিক অবসাদে ভুগছিল। বাঁচতে চাইত না। মা আত্মহত্যা করেছে।"
রবিবার হাবড়া থানার পুলিশ ধৃতদের বারাসাত আদালতে তুলেছিল।