বাদুড়িয়া থানার ছবি
শেষ আপডেট: 28 February 2025 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিকমতো খেতে না দিয়ে নাবালক নাতিকে দিনের পর দিন ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ। অসুস্থ অবস্থায় শুক্রবার ১৪ বছর বয়সি নাদিম মানসুরকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয়রা। বসিরহাট (Basirhat) মহকুমার বাদুড়িয়া (Baduria) থানার নারায়নপুরের ঘটনা। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দাদুকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, নারায়ণপুরের বাসিন্দা অভিযুক্ত রজ মন্ডল তাঁর মেয়ে পারভীন বিবিকে কাশ্মীরের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেন। ওই যুবকের প্রথম সন্তান নাদিম। কিন্তু স্ত্রী মারা যাওয়ায় তিনি আবার দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং বাদুড়িয়ার নারায়ণপুরে দ্বিতীয় শ্বশুরবাড়িতে ১৪ বছরের সন্তানকে মানুষ করার জন্য রেখে যান বলে খবর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত ৭-৮ মাস নাবালককে একটি ঘরে আটকে রেখেছিল দ্বিতীয় পক্ষের দাদু, দিদা ও মা। অভিযোগ, ঠিকমতো খেতে না দিলেও নিয়ম করে চলত মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন। সময় যত গড়াচ্ছিল অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়ছিল। নিজের ছেলে না হওয়ায় নাবালকের উপর নেমে আসে চরম আক্রমণ। দিনের পর দিন নাবালক নাতিকে না খেতে দিয়ে অত্যাচার করে ঘরের মধ্যে আটকে রাখার অভিযোগ দ্বিতীয় পক্ষের দাদু, দিদা ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয়রা শুক্রবার সকালে অসুস্থ ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ছোট্ট নাদিমকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপরই বাদুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত দাদুকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তকে শুক্রবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সৎ মা সালমা বিবি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, 'আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা। ওর (নাদিম) পেটের সমস্যা আছে , তাই ওর শরীর খারাপ থাকে। কিন্তু সবসময় ওর খেয়াল রাখা হয়।'
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সৎ ছেলেকে প্রানে মেরে ফেলার জন্যই পরিকল্পনামাফিক এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে তারা। আর কিছুদিন এমন অবস্থায় থাকলে নাদিমের মৃত্যু হতে পারত। এদিন অভিযুক্ত দাদুকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে রীতিমতো বিক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে শিশুটির সুরক্ষার ব্যবস্থা পুলিশকে করতে হবে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সকাল থেকেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো অশান্তি ছড়িয়েছে বাদুড়িয়ায়।