
জয়ন্ত সিং ও তার আইনজীবী
শেষ আপডেট: 4 July 2024 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: চারদিন ধরে বেপাত্তা ছিল আড়িয়াদহকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত জয়ন্ত সিং। পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। কিন্তু নাগালে পায়নি। অবশেষে বুধবার রাতে আত্মসমর্পণ করে সে। কার মদতে কোথা লুকিয়ে ছিল জয়ন্ত সিং সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ কেন তাকে খুঁজে পেল না তাই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিস্ফোরক দাবি করলেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং।
তাঁর দাবি, "জয়ন্ত সিং আসলে মদন মিত্রের ভীষণ ঘনিষ্ট ব্যক্তি। জায়েন্ট সিংয়ের বাড়বাড়ন্ত মদন মিত্রের জন্য হয়েছে। এর আগেও জয়ন্ত সিং যখন গ্রেফতার হয়েছিল, সেবার মদন মিত্রের বাড়ি থেকে জেলে ওর জন্য খাবার যেত। এখন চাপে পড়ে মদন মিত্র যতই অস্বীকার করুন, যে ছবিগুলো মিডিয়াতে দেখানো হচ্ছে কোনওটা মিথ্যে নয়। এখন সাংসদ সৌগত রায়ের দিকে ভিড়িয়ে দিলে হবে না।"
এই গণপিটুনির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে পুলিশ ধরপাকড় শুরু করে। তখন জয়ন্ত গাড়ি চালিয়ে উত্তরবঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ওড়িশা পালানোর ছকও কষে ছিল সে। তার বিরুদ্ধে ব্যারাকপুর কমিশনারেটে ১০ টি মামলা রয়েছে। সেই মামলাগুলির মধ্যে ৭ টি দক্ষিণেশ্বরে ও বেলঘরিয়া থানায় ৩ টি মামলা রয়েছে। মারধর, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
আড়িয়াদহের বাসিন্দা কলেজ ছাত্র সায়নদীপ ও তাঁর মাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে জয়ন্ত সিং ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মূল অভিযুক্তকে আড়াল করার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত জয়ন্ত সিংয়ের সঙ্গে মদন মিত্র ও তাঁর পুত্র বধূর কিছু ছবি ভাইরাল হওয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে মদন মিত্র অবশ্য জানিয়ে দেন, তিনি অনেকের সঙ্গে ছবি তোলেন। জয়ন্তও সেরকমই একজন।
বৃহস্পতিবার জয়ন্তকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হয়েছিল। তাকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।