দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগ্রার লালাউ গ্রামের বছর পনেরোর দলিত কিশোরীকে গায়ে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়ার স্মৃতি এখনও টাটকা। ফের গায়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটল উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বছর আঠারোর এক তরুণীর গায়ে পেট্রল ছিটিয়ে, আগুন লাগিয়ে দিল এক যুবক। দিল্লি সফদরজঙ্গ হাসপাতালে রবিবার মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণীর।
পুলিশ জানিয়েছে, মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওই তরুণীর মাও। সফদরজঙ্গ হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন তিনি। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। অভিযুক্ত ধরা পড়েছে। পেশায় সে একজন ট্যাক্সি চালক। বয়স ৩১ বছর। তরুণীর পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই মেয়েটিকে উত্যক্ত করত সে। কলেজ যাওয়া আসার পথে প্রায়ই তরুণীর পিছু নিয়ে নানা অশ্লীল মন্তব্য, কটূ কথা বলে তাকে বিরক্ত করত। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনাটা ঘটে ১৬ ডিসেম্বর। কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে তরুণীর পথ আটকে দাঁড়ায় ওই ট্যাক্সি চালক। প্রথমে নানা কথায় তাকে উত্যক্ত করা শুরু করে। যুবককে পথ ছাড়তে বলে গলার স্বর চড়ায় তরুণীও। আচমকাই তরুণীর গায়ে পেট্রল ছিটিয়ে, জ্বলন্ত লাইটার ছুড়ে দেয় ওই যুবক। দাউদাউ আগুনে পুড়তে শুরু করেন তরণী। আর্তনাদ শুনে ছুটে আসেন এলাকার লোকজন। তড়িঘড়ি একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সে দিন সন্ধ্যায় তরুণীকে ভর্তি করা হয় ঋষিকেশের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সে। শরীরে ৭৭ শতাংশই পুড়ে গেছিল তরুণীর। রাতের দিকে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিয়ে আসা হয় দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
সফদরজঙ্গ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরের ৭৭-৮০ শতাংশই পুড়ে গেছিল তরুণীর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তাঁর মুখ ও ফুসফুস। অপরাধীর ফাঁসির সাজা চেয়ে সরব হয়েছে তরুণীর পরিবার ও তাঁর কলেজের সহপাঠীরাও।
দিনকয়েক আগেই আগ্রার দলিত পরিবারের মেয়ে বছর পনেরোর সঞ্জলির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সফদরজঙ্গ হাসপাতালেই সম্প্রতি মৃত্যু হয়েছে তার। দুষ্কৃতীরা এখনও অধরা।