দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিরে সে যে ভীষণ দামি! এথনিক ‘এভারলাইট কালেকশন’-এর পর সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসে অস্ট্রেলিয়ান হিরের চমক। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড রিয়ো টিনটোর হাত ধরে সেনকোর ঝুলিতে এ বার অস্ট্রেলিয়ান ডায়মন্ডস কালেকশন। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার আরগাইল খনি থেকে আমদানি করা আকরিক ঘষে মেজে নতুন নকশায় তৈরি হয়েছে সেনকোর ব্রাইডাল মাস্টারপিস। ফ্যাশনেবল জুয়েলারিতেও অস্ট্রেলিয়ান হিরের দ্যুতি। নতুন কালেকশনের উদ্বোধনেও তাই ছিল অন্য চমক। শুধু উদ্বোধন নয়, অস্ট্রেলিয়ান ডায়মন্ড কালেকশনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করা হল মহিলা ওয়ান ডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মিতালি রাজকে। হিরের টুকরো মেয়ের ছোঁয়ায় হাজার ওয়াটের আলো জ্বলল সেনকোর হীরক রাজার দেশে।
নতুন ডায়মন্ডস কালেকশন লঞ্চ নয়, প্রতি বছরের মতো এ বারও সেরাদের সম্মানিত করল সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস। চলতি বছরে সেনকোর ফোকাস ভারতীয় ক্রীড়া জগতের নামী ব্যক্তিত্ব। সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে অনবদ্য অবদানের জন্য মিতালির হাতে ‘স্বর্ণ-সম্মান’ তুলে দিলেন সেনকোর চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর শঙ্কর সেন। খেলাধূলার জগতে সেরা মহিলার স্বীকৃতি হিসেবে ‘সোনার মেয়ে’ সম্মান জিতলেন বাংলার হেপ্টাথলিট স্বপ্না বর্মন।
জীবনে অনেক উত্থান পতন দেখেছেন মিতালি। একসময় ক্রিকেট দুনিয়ায় রাজত্ব ছিল কেবলমাত্র পুরুষদের। মহিলারা সেখানে অনেকটাই ব্রাত্য। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখানো মিতালি ‘স্বর্ণ সম্মান’ পেয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত। সানিয়া মির্জার ভাষায় ক্রিকেট দুনিয়ার ‘ইনক্রেডিবেল অ্যাম্বাসাডর’ মিতালি এখন অস্ট্রেলিয়ান ডায়মন্ডসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরও। বললেন, ‘‘সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের স্বর্ণ-সম্মান পেয়ে আমি গর্বিত। যখন প্রথম ক্রিকেট খেলতে শুরু করি, তখন মহিলা খেলোয়াড়দের কোনও পরিচিতি ছিল না। বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি সম্মানিত।’’
ইনি রাঁধেন আবার চুলও বাঁধেন। ব্যাট হাতে মাঠে ছক্কাও হাঁকান, আবার ট্রাডিশনাল আউটফিটের সঙ্গে কখনও ভারী গয়না আবার কখনও ছিমছাম ট্রেন্ডি লুকে পার্টির মধ্যমণি হয়ে ওঠেন। গয়না বরাবরই পছন্দ মিতালির। আর গয়নায় যদি থাকে হিরের চমক, তাহলে তো কথাই নেই। একখণ্ড হিরের জাদুতে গোটা সাজটাই হয়ে উঠবে অনন্য। সেনকোর এমডি শুভঙ্কর সেনের কথায়, ‘‘আমাদের বিপণিতে মিতালিকে পেয়ে আমরা ধন্য। রিয়ো টিন্টোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সেনকোর এই এক্সক্লুসিভ কালেকশনের লঞ্চ ছিল আমাদের সংস্থার অন্যতম মাইলস্টোন। বলা যায়, সেনকোর মুকুটে নতুন পালক যোগ করল এই কালেকশন। পাশাপাশি, মিতালির হাতে স্বর্ণ সম্মান তুলে দিতে পেরেও আমরা গর্বিত।’’
ডিজাইনেই হোক, দামে বা হিরের বিশুদ্ধ চমকে— অস্ট্রেলিয়ান ডায়মন্ডস কালেকশন একেবারে ইউনিক। আর দামেও সাধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যেই। দাম শুরু হচ্ছে ন’হাজার টাকা থেকে। ছিমছাম, স্মার্ট অস্ট্রেলিয়াল ডায়মন্ড যেন আদ্যন্ত ম্যাজিক। এর ট্রেন্ডি ডিজাইন মুগ্ধ করবে টিউব টপের আধুনিকা থেকে তাঁতের সাজের গৃহবধূকেও। ঘরোয়া পার্টি থেকে কর্পোরেট ইভেন্ট, অস্ট্রেলিয়ান ডায়মন্ডসের এককুঁচি হিরে নজর টানবে বন্ধুদের আড্ডাতেও।
আর এ হিরে তো শুধু দেশি নয়, এতে রয়েছে আন্তর্জাতিক ছোঁয়াও। সুদূর পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার আরগাইল খনি থেকে তুলে আনা আকরিক ভারতীয় কারিগরদের হাতের জাদুতে হয়ে উঠছে নিপুণ এবং স্মার্ট। নেপথ্যে বিশ্বের অন্যতম বড় খনি সংস্থা অ্যাংলো-অস্ট্রেলিয়ান গ্রুপ রিয়ো টিনটো। ভারতের গয়না বিপণির সঙ্গে হাত মেলানোটা স্বভাবতই লাভের হবে বলে মনে করছেন রিয়ো টিনটোর ভারতীয় শাখার মার্কেটিং প্রধান বিক্রম মার্চেন্ট। বললেন, ‘‘ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে সেনকোর ফ্যাশন ও ব্রাইডাল কালেকশন জনপ্রিয় হবে সন্দেহ নেই। আর মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মিতালি রাজকে অ্যাম্বাসাডরের সম্মান দিয়ে এই কালেকশনের গুরুত্ব আরও অনেকটাই বেড়েছে।’’
তাহলে আর অপেক্ষা কীসের? দেশি-বিদেশি ফিউশনে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসে ঢুঁ মারতে পারেন আজকেই। বড়দিনের আগেই বড় হীরক খণ্ড উপহার দিয়ে চমকে দিতে পারেন বউ বা বান্ধবীকে। কী বলেন!