দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো কল সেন্টার খুলে রমরম করে চলছিল ব্যবসা। বেআইনি লেনদেনের নিশানায় ছিল মার্কিন মুলুকের নাগরিকরা। টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি খুইয়ে মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে অভিযোগও জমা পড়ছিল ভূরি ভূরি। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে নয়ডায় এমন ২৫টি ভুয়ো কল সেন্টার ঝাঁপ বন্ধ করল এফবিআই ও রয়্যাল ক্যানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ। ধরা পড়ল অন্তত ৩০০ কর্মী।
চলতি বছর জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছিল অভিযান। নয়ডার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ২৫টি ভুয়ো কল সেন্টারের খোঁজ পায় পুলিশ। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ অফিসই ছিল নয়ডার সেক্টর ৬৩-তে। বাজেয়াপ্ত করা হয় ৪০০টিরও বেশি কম্পিউটার।
ভারতের একটি সাইবার প্রতারণা চক্র মার্কিন নাগরিকদের ঠকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ উঠেছিল আগেই। সেই চক্রের নাগাল পেতেই ভারতে আসেন এফবিআই ও রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের আধিকারিকরা। নয়ডার গৌতম বুদ্ধ নগরের সদর দফতরে ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠকও সারেন তাঁরা। তদন্তকারীদের কথায়, এই সব কল সেন্টার থেকে ভুয়ো কল যেত মার্কিন নাগরিকদের কাছে। নানা কথায় ফাঁসিয়ে এটিএমের পিন নম্বর হাতিয়ে নিত অপরাধীরা। এই ভাবে গত চার-পাঁচ মাসে আড়াই লক্ষ টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছিল তারা।
গৌতম বুদ্ধ নগরের পুলিশ সুপার অজয় পাল শর্মা বলেছেন, ‘‘জুলাই ২০ থেকে ডিসেম্বর ২১ পর্যন্ত নয়ডায় ২৫টি ভুয়ো কল সেন্টারের খোঁজ পেয়েছি আমরা। একটা বড় চক্র এই সেন্টারগুলি পরিচালনা করত। এমন আরও কল সেন্টার নয়ডা ও তার আশপাশে গজিয়ে উঠেছে কিনা সেটা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
পুলিশ সুপারের কথায়, এই সেন্টারের লোকজন নিজেদের পরিচয় দিত মাইক্রোসফট বা অ্যাপেলের কর্মী হিসেবে। মূলত আমেরিকা ও কানাডার নাগরিকরাই ছিল তাদের নিশানায়। অপরাধীদের প্রত্যককেই এই কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। তাদের ইংরাজি উচ্চারণ তুখোর, ফলে সহজেই একটা সুন্দর কথোপকথনের মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের মন জয় করে নিত। তার পর কৌশলে তাদের এটিএম নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে চল ব্যবসা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চক্রের পাণ্ডাদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রয়েছে। আমেরিকা, চিন ও দুবাইতেও রয়েছে তাদের ঘাঁটি। ধৃতদের জেরা করে এই প্রতারণা চক্রের মাস্টারমাইন্ডদের তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।