"কথা দিয়েছিল ফিরে আসবে", হুইলচেয়ারে বসে আজও স্মৃতি হাতড়ান কাশ্মীরে আইইডি বিস্ফোরণে নিহত মেজরের স্ত্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম চোখে চোখ রাখার দিনটা মনে করলেই তীব্র যন্ত্রণা মোচড় দিয়ে ওঠে মনের আনাচ কানাচে। কেঁপে ওঠেন ত্রুপ্তি। হুইলচেয়ারের চাকা ঘুরিয়ে হয়তো ঘরের সেই সব কোণা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেন, যেখানে একসময় বসে মেজর বই পড়তেন বা তাঁর সঙ্গে
শেষ আপডেট: 23 January 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম চোখে চোখ রাখার দিনটা মনে করলেই তীব্র যন্ত্রণা মোচড় দিয়ে ওঠে মনের আনাচ কানাচে। কেঁপে ওঠেন ত্রুপ্তি। হুইলচেয়ারের চাকা ঘুরিয়ে হয়তো ঘরের সেই সব কোণা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেন, যেখানে একসময় বসে মেজর বই পড়তেন বা তাঁর সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নিতেন। বাড়ি ফিরে আসার কথা দিয়েছিলেন স্বামী, কথা রেখে ফিরেও এসেছেন। কফিনে বন্দি তাঁর মরদেহ ফের একবার পঙ্গু করে দিয়েছে ত্রুপ্তিকে।
গত ১১ জানুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার নৌসেরা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে আইইডি বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় মেজর শশীধরণ ভি নায়ারের। বিস্ফোরণে প্রাণ যায় আরও এক জওয়ানের। ১৫ জানুয়ারি পুণেতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় মেজরের।
উপত্যকা থেকে কফিনবন্দি হয়ে শহিদ মেজরের দেহ এসে পৌঁছয় তাঁর জন্মভিটে পুণের খাদাকওয়াসলাতে। জাতীয় পতাকা ও ফুলে মুড়ে ফেলা হয় মেজরের দেহ। গান স্যালুটে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় মেজরকে। মরদেহ যেখানে শায়িত ছিল তার থেকে কিছুটা দূরেই বসেছিলেন ত্রুপ্তি। হুইলচেয়ারে বসা যুবতীর শূন্যদৃষ্টি সেদিন নাড়া দিয়েছিল গোটা দেশকে।

প্রথম দেখা এক আত্মীয়ের বাড়িতে। ত্রুপ্তির তখন ২৬। মাস্টার্সের পড়াশোনা চলছে। মেজর সাতাশের ঝকঝকে তরুণ। চোখমুখে বীরত্বের দীপ্তি। যোগ দিয়েছেন সেনাবাহিনীতে। হালকা কথা, মেসেজ। ছ’মাসের মধ্যে সেই সম্পর্ক কতটা গভীরে পৌঁছেছিল সেটা জানেন না ত্রুপ্তি। শুধু একসঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলেন দু’জনে। সেখানেও বাধ সাধে নিয়তি। এনগেজমেন্টের আট মাসের মাথায় ধরা পড়ে মাল্টিপল আর্টেরিওস্কেলেরোসিস। প্রথমে দু’পা, ধীরে ধীরে শরীরের নীচের অংশ অবশ হয়ে যায় ত্রুপ্তির। তবে হার মানেননি শশীধরণ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ভালোবাসার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি। আত্মীয়-পরিজনদের নানা টিপ্পনী সামলেও প্রেমিকাকে বিয়ে করেন। শুধু স্বামী নয়, শশীধরণ হয়ে ওঠেন ত্রুপ্তির বাঁচার প্রেরণা। স্বামীকে আঁকড়ে ধরেই নতুন করে চলার পথ খুঁজে পান ত্রুপ্তি।
“ত্রুপ্তির চোখের দিকে আজ আর তাকানো যায় না। আমার বন্ধু আর নেই, তাঁর শেষ হোয়াটস্অ্যাপ মেসেজের রিপ্লাইটাও দেওয়া হয়নি,” শশীধরণের বন্ধু রোহিত নায়ার জানালেন, কাশ্মীরে পোস্টিংয়ের পর সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছিলেন ত্রুপ্তি। স্বামী যদি আর না ফেরেন, এই ভয় সবসময় তাড়া করতো তাঁকে। যেটুকু সময় মেজর ছুটিতে বাড়ি আসতেন, তাঁকে কাছছাড়া করতে চাইতেন না ত্রুপ্তি। ছুটি কাটিয়ে গত ২ জানুয়ারি রাজৌরি চলে যান শশীধরণ। যাওয়ার আগে ত্রুপ্তির দু’ হাত ধরে ফিরে আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কথা রেখেছেন মেজর। শুধু বাঁচতে ভুলে গেছেন ত্রুপ্তি।