
শেষ আপডেট: 22 November 2018 18:30
‘‘আদিবাসীদের নিশানা সাঙ্ঘাতিক। প্রতিটা তীর উড়ে আসছিল প্রায় ১০০ ফুট উচ্চতায়’’, ঘটনার কথা বলতে গিয়ে ফের একবার শিউরে উঠলেন কমান্ড্যান্ট বললেন, বেগতিক দেখে চপার উড়িয়ে আদিবাসীদের নাগালের বাইরে চলে গেছিলেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: তারা হিংস্র, বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, কেমন আছে রহস্যে ঘেরা দ্বীপ নর্থ সেন্টিনেলের আদিম উপজাতি সেন্টিনেলিজরা?
প্রবীনের কথায়, ‘প্ল্যান এ’ মুখ থুবড়ে পড়ার পর ‘প্ল্যান বি’ তাঁরা ঠিক করে ফেলেন কিছুক্ষণের মধ্যেই। বেশ কিছুটা সময় নিয়ে আকাশেই চক্কর কেটে ফের ফিরে আসেন দ্বীপের কাছাকাছি। সৈকতের এক জায়গায় দু’টো বড় বালির ঢিবি কমান্ড্যান্ট ও তাঁর সঙ্গীরা দেখেছিলেন আগেই। সম্ভবত সেই ঢিবি দু’টোই ছিল মৃত মৎস্যজীবীদের কবর। কারণ সেন্টিনেলিজদের প্রবতা হল শিকারের পর সেটাকে বালির নীচে চাপা দিয়ে রাখা। ঢিবি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে চপার নিয়ে নজর রাখা শুরু করেন তাঁরা। আদিবাসীরা তখন ধারে কাছে নেই। চটপট পরিকল্পনা স্থির করে চপার নিয়ে প্রবীন এগিয়ে চললেন ঢিবির দিকে।
আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ দ্বীপে নিয়ে যেতে মৎস্যজীবীদের ২৫ হাজার দিয়েছিলেন মার্কিন পর্যটক, কী ঘটেছিল ওই দিন?
‘‘পাশাপাশি দু’টো বড় বালির ঢিবি। মধ্যেকার দূরত্ব দুই ফুট হবে। দ্রুত চপার থেকে নেমে আমরা বালি খোঁড়া শুরু করি। কিছুটা খুঁড়তেই একটা দেহ বার হয়। পাশেরটা থেকে বার হয় আরও একটা দেহ। দু’টো দেহ নিয়েই যখন উড়ব ভাবছি আচমকাই দেখি সেন্টিনেলিজদের যোদ্ধারা ছুটে আসছে,’’ এরপরের ঘটনা আরও ভয়ানক, বললেন প্রবীন, ‘‘একটা দেহ নিয়ে কোনও মতে চপারে উঠতেই দেখি সেন্টিনেলিজরা দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একদল চপার লক্ষ্য করে তীর ছুড়ে যাচ্ছে, অন্যদল বালিতে পড়ে থাকা আরও একটা দেহ ঘিরে রেখেছে। অতএব একটা দেহ নিয়েই আমরা দ্বীপ ছেড়ে বেরিয়ে আসি।’’
যে কোনও মুহূর্তে তীরের ঘায়ে ধরাশায়ী হতে পারতেন তাঁদের মধ্যে যে কেউ, এমনটাই জানিয়েছেন প্রবীন। তাঁর কথায়, দুই মৎস্যজীবীকে তাদেরই বোটের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরেছিল সেন্টিনেলিজরা। পরে সেই দেহ তারা পুঁতে দেয় বালিতে। উদ্ধার করা একটি দেহ তুলে দেওয়া হয় তাঁর পরিবারের হাতে।
আরও পড়ুন: Breaking News:মার্কিন পর্যটককে তীর-ধনুক দিয়ে মেরে ফেলল আন্দামানের উপজাতিরা
এই দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য ওই বছরের স্বাধীনতা দিবসের দিন কোস্ট গার্ড কমান্ড্যান্ট প্রবীন গৌরকে পুরষ্কৃত করে সরকার। মার্কিন পর্যটক জন অ্যালেন চাওয়ের মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনেই নিজের সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন প্রবীন। বলেছেন, ‘‘নিষিদ্ধ দ্বীপে অভিযানের প্রতিটা মুহূর্ত ছিল রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় ভরপুর। মৃত্যুর হাতছানি ছিল প্রতি পদে পদেই। সভ্য মানুষদের প্রতি এক সীমাহীন বিতৃষ্ণা ও রাগ এখনও পোষণ করে চলেছে উপজাতিরা।’’
আরও পড়ুন: কোথায় পোঁতা মার্কিন পর্যটকের দেহ? নর্থ সেন্টিনেল ঘিরে পুলিশ, নৃতত্ত্ববিদ, আদিবাসী বিশেষজ্ঞেরা