Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশু

‘আমার চপারের দিকে উড়ে আসছিল তীর’, নর্থ সেন্টিনেলে ২০০৬ সালের অভিজ্ঞতার কথা বললেন কমান্ড্যান্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটার পর একটা উড়ে আসছিল তীর। ধারালো বর্শা, লাঠি মুর্হুমুর্হু। চপারের পাখা সবে ঘুরতে শুরু করেছে। মাঠি ছাড়তে আর মিনিট খানেক বাকি। দূর থেকে দুরন্ত গতিতে ধেয়ে আসছে এক ঝাঁক কালো মাথা। রোগা, কালো শরীরগুলো থেকে প্রতিহিংসার আগুন

‘আমার চপারের দিকে উড়ে আসছিল তীর’, নর্থ সেন্টিনেলে ২০০৬ সালের অভিজ্ঞতার কথা বললেন কমান্ড্যান্ট

শেষ আপডেট: 22 November 2018 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটার পর একটা উড়ে আসছিল তীর। ধারালো বর্শা, লাঠি মুর্হুমুর্হু। চপারের পাখা সবে ঘুরতে শুরু করেছে। মাঠি ছাড়তে আর মিনিট খানেক বাকি। দূর থেকে দুরন্ত গতিতে ধেয়ে আসছে এক ঝাঁক কালো মাথা। রোগা, কালো শরীরগুলো থেকে প্রতিহিংসার আগুন যেন ঠিকরে বেরোচ্ছে। উত্তর সেন্টিনেলে দুই হারিয়ে যাওয়া মৎস্যজীবীর খোঁজ করতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হয়েছিলেন কমান্ড্যান্ট প্রবীন গৌর। সালটা ২০০৬। নর্থ সেন্টিনেলের কাছাকাছি গিয়ে নিখোঁজ দুই মৎস্যজীবী। পুলিশের অনুমান, সম্ভবত তাঁরা মৃত। কারণ ২০০৪ সালে সুনামির পর ত্রাণ বিলি করতে গিয়েই সেন্টিনেলিজদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল পুলিশ ও উপকূল রক্ষী বাহিনীকে। তার পর থেকে ওই দ্বীপের ত্রিসীমানায় পা রাখা নিষিদ্ধ। মৎস্যজীবীদের দেহ খুঁজে বার করার দায়িত্ব পড়েছে কোস্ট গার্ড প্রবীনের উপর। জনা কয়েক রক্ষী নিয়ে তিনি উড়ে গেছেন উত্তর সেন্টিনেলে। ১২ বছর আগের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে ভয় ও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠছে কমান্ড্যাটের চোখে-মুখে। আতঙ্কের সে প্রহর ছিল বড়ই ভীষণ। কমান্ড্যান্ট বললেন, ‘‘আমাদের চপার চক্কর কাটছে দ্বীপের চারদিকে। উত্তর ও দক্ষিণ সেন্টিনেল আঁতিপাতি করে খুঁজে আমরা থিতু হলাম উত্তর সেন্টিনেলের সৈকত ঘেঁষে। নীচ দিয়ে উড়ছে চপার। হঠাৎই চিৎকার। দেখলাম ছুটে আসছে একদল আদিবাসী। প্রত্যেকের হাতে তীর-ধনুক, ধারালো অস্ত্র।’’ চপার দেখেই তীর ছুড়তে শুরু করেছিল আদিবাসীরা। প্রবীন জানিয়েছেন, সেই দলে কোনও মহিলা ছিল না। প্রায় জনা পঞ্চাশ পুরুষ হাতে যা ছিল চপারের দিকে ছুড়ে মারছিল। ‘‘আদিবাসীদের নিশানা সাঙ্ঘাতিক। প্রতিটা তীর উড়ে আসছিল প্রায় ১০০ ফুট উচ্চতায়’’, ঘটনার কথা বলতে গিয়ে ফের একবার শিউরে উঠলেন কমান্ড্যান্ট বললেন, বেগতিক দেখে চপার উড়িয়ে আদিবাসীদের নাগালের বাইরে চলে গেছিলেন তাঁরা। আরও পড়ুন: তারা হিংস্র, বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, কেমন আছে রহস্যে ঘেরা দ্বীপ নর্থ সেন্টিনেলের আদিম উপজাতি সেন্টিনেলিজরা? প্রবীনের কথায়, ‘প্ল্যান এ’ মুখ থুবড়ে পড়ার পর ‘প্ল্যান বি’ তাঁরা ঠিক করে ফেলেন কিছুক্ষণের মধ্যেই। বেশ কিছুটা সময় নিয়ে আকাশেই চক্কর কেটে ফের ফিরে আসেন দ্বীপের কাছাকাছি। সৈকতের এক জায়গায় দু’টো বড় বালির ঢিবি কমান্ড্যান্ট ও তাঁর সঙ্গীরা দেখেছিলেন আগেই। সম্ভবত সেই ঢিবি দু’টোই ছিল মৃত মৎস্যজীবীদের কবর। কারণ সেন্টিনেলিজদের প্রবতা হল শিকারের পর সেটাকে বালির নীচে চাপা দিয়ে রাখা। ঢিবি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে চপার নিয়ে নজর রাখা শুরু করেন তাঁরা। আদিবাসীরা তখন ধারে কাছে নেই। চটপট পরিকল্পনা স্থির করে চপার নিয়ে প্রবীন এগিয়ে চললেন ঢিবির দিকে। আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ দ্বীপে নিয়ে যেতে মৎস্যজীবীদের ২৫ হাজার দিয়েছিলেন মার্কিন পর্যটক, কী ঘটেছিল ওই দিন? ‘‘পাশাপাশি দু’টো বড় বালির ঢিবি। মধ্যেকার দূরত্ব দুই ফুট হবে। দ্রুত চপার থেকে নেমে আমরা বালি খোঁড়া শুরু করি। কিছুটা খুঁড়তেই একটা দেহ বার হয়। পাশেরটা থেকে বার হয় আরও একটা দেহ। দু’টো দেহ নিয়েই যখন উড়ব ভাবছি আচমকাই দেখি সেন্টিনেলিজদের যোদ্ধারা ছুটে আসছে,’’ এরপরের ঘটনা আরও ভয়ানক, বললেন প্রবীন, ‘‘একটা দেহ নিয়ে কোনও মতে চপারে উঠতেই দেখি সেন্টিনেলিজরা দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একদল চপার লক্ষ্য করে তীর ছুড়ে যাচ্ছে, অন্যদল বালিতে পড়ে থাকা আরও একটা দেহ ঘিরে রেখেছে। অতএব একটা দেহ নিয়েই আমরা দ্বীপ ছেড়ে বেরিয়ে আসি।’’ যে কোনও মুহূর্তে তীরের ঘায়ে ধরাশায়ী হতে পারতেন তাঁদের মধ্যে যে কেউ, এমনটাই জানিয়েছেন প্রবীন। তাঁর কথায়, দুই মৎস্যজীবীকে তাদেরই বোটের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরেছিল সেন্টিনেলিজরা। পরে সেই দেহ তারা পুঁতে দেয় বালিতে। উদ্ধার করা একটি দেহ তুলে দেওয়া হয় তাঁর পরিবারের হাতে। আরও পড়ুন: Breaking News:মার্কিন পর্যটককে তীর-ধনুক দিয়ে মেরে ফেলল আন্দামানের উপজাতিরা এই দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য ওই বছরের স্বাধীনতা দিবসের দিন কোস্ট গার্ড কমান্ড্যান্ট প্রবীন গৌরকে পুরষ্কৃত করে সরকার। মার্কিন পর্যটক জন অ্যালেন চাওয়ের মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনেই নিজের সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন প্রবীন। বলেছেন, ‘‘নিষিদ্ধ দ্বীপে অভিযানের প্রতিটা মুহূর্ত ছিল রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় ভরপুর। মৃত্যুর হাতছানি ছিল প্রতি পদে পদেই। সভ্য মানুষদের প্রতি এক সীমাহীন বিতৃষ্ণা ও রাগ এখনও পোষণ করে চলেছে উপজাতিরা।’’ আরও পড়ুন: কোথায় পোঁতা মার্কিন পর্যটকের দেহ? নর্থ সেন্টিনেল ঘিরে পুলিশ, নৃতত্ত্ববিদ, আদিবাসী বিশেষজ্ঞেরা

```