
শেষ আপডেট: 4 September 2020 18:30
৩) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খেয়াল রাখছেন তো
অনেকেই ভাবতে পারেন, এটা কোনও অভ্যাস হল। প্রয়োজনেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খেয়াল রাখতে হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন নিয়ম করে নিজের অ্যাকাউন্টের খুঁটিনাটি খেয়াল রাখতে হবে। কত লেনদেন হল, অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে, কোনদিন কী খরচ করেছেন বা আগামী দিনে কোন খাতে কত টাকা খরচের পরিকল্পনা রয়েছে সব দেখে লিখে রাখলে ভাল। দিনের যে কোনও সময় একবার হলেও এই অভ্যাস করে নেওয়া উচিত। এর সুফল হল ছন্নছাড়া ভাব বশে আসে। অনেক বেশি হিসেবি হয়ে ওঠা যায়। গুছিয়ে কাজ করার মনোভাবও তৈরি হয়। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকছে কিনা সে হিসেবটাও রাখা যায়।
৪) পেশা থেকে গেরস্থালি, পরিচর্যা হবে ‘পারফেক্ট’
নিজেকে পারফেকশনিস্ট তৈরি করতে হবে। একদিনে হবে না, ধীরে ধীরে এই অভ্যাস তৈরি হবে। নিজের কর্মক্ষেত্র যেমন সামলাতে হবে তেমনি ঘর গেরস্থালির পরিচর্যাও করতে হবে নিয়মিত। ছোট ছোট কাজ যেমন ঘর পরিষ্কার আছে কিনা, পুষ্টিকর খাবার রান্না হচ্ছে কিনা, বাড়িতে গাছ থাকলে তার পরিচর্যা নিয়ম করে করতে হেব। ইলেকট্রিকের বিল থেকে ইন্টারনেটের বিল, সবই খুঁটিয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তার মাঝেই হবে অফিস বা ব্যবসার কাজ। গোটা দিনকে কয়েকটা ভাগে ভেঙে রুটিন তৈরি করে নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস রোজকার জীবনে তৈরি হলে সক্রিয়তা অনেক বাড়বে। আলস্য কাবু করবে না। চনমনে ভাব থাকবে সারাদিন, যে কোনও কাজই তাড়াতাড়ি হবে।
৫) ভবিষ্যতের লক্ষ্য তৈরি হোক আজ থেকেই
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লক্ষ্য স্থির না করলে জীবনে উন্নতি হবে না। একটা টার্গেট ঠিক করতেই হবে। সেই মতো প্রতিদিনের কাজ গোছাতে হবে। কোনও কাজই ফেলে রাখা নয়, যেদিন যতটা দরকার শেষ করতেই হবে। কোন কাজের গুরুত্ব বেশি সেটা নিজেকেই ঠিক করতে হবে। বেকার সময় নষ্ট করার বদলে গুরুত্ব বিচার করে কাজকেও ছোট ছোট ভাগে ভেঙে নিতে হবে। তাহলেই লক্ষ্যের পথ মসৃণ হবে। সময়ের গুরুত্ব বোঝার মানসিকতা তৈরি হবে।
৬) দায়িত্ব নেওয়ার অভ্যাস আত্মবিশ্বাস বাড়ায়
দায়িত্ব নিতে হবে যেচেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্ব নিয়ে কোনও কাজ করার অভ্যাস তৈরি হলে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। খারাপ ও ভুলের পার্থক্য অেক দ্রুত করা যায়। সেই সঙ্গেই চনমনে হতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ বা ইমেল দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তার উত্তর দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ফেলে রেখে পরে উত্তর দেব ভাবলে, নিজের মধ্যেও যেমন আলস্য চলে আসে তেমনি বিপরীত দিকেও ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
৭) অযথা উত্তেজনা নয়, হঠকারিতা বিপদ ডেকে আনে
ভাল খবর হোক বা খারাপ, শোনার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তেজিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠকারিতা ভুল পথে ঠেলে দেয়। ধীরে সুস্থে মাথা ঠান্ডা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভাল। নিজেকে আগে প্রশ্ন করতে হবে। কেন এমন হল বা কী হতে চলেছে। কয়েক মিনিটের ভাবনাচিন্তা থেকেই হয়তো বড় জটিলতার সহজ সমাধান বের হয়ে আসতে পারে।
৮) নিজের ছোট ছোট চাহিদা খেয়াল রাখছেন তো
ব্যস্ততা যতই থাক নিজের ছোট ছোট চাহিদার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক সময় খাওয়া, সঠিক সময়ে ঘুম। শরীরচর্চার অভ্যাস থাকলে তার জন্য সময় বের করা। পরিবার, আত্মীয়, বন্ধুদের জন্য সময় রাখা। নিজের কোনও শখ থাকলে সেই কাজ করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজের ব্যস্ততায় নিজের চাহিদাগুলো না মেটালে অবসাদ তৈরি হবে কমদিনেই। ভালর থেকে খারাপ চিন্তা বেশি আসবে। ক্লান্ত লাগবে অনেক।
৯) কাকে অনুসরণ করবেন, কাকে নয় সেটা ঠিক করুন
পেশা আর ব্যক্তিগত জীবনকে আলাদা রাখতেই হবে। প্রতিদিন আমাদের চারপাশে যারা ঘিরে থাকে তাদের প্রভাব মনে ছাপ রাখেই। তবে সবসময় সেই নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা ঠিক নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সব সময় তাদের সার্চ করা বা তাঁরা কী করছেন সেটা খেয়াল রাখা, এইসবই ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। নিজের আগ্রহের ক্ষেত্রটা তৈরি করতে হবে। পেশা ও ব্যক্তিগত পরিসরকে আলাদা করতেই হবে।
১০) যেমন ভাবনা তেমন কাজ
অনেকে বলে ‘ফাইভ সেকেন্ড রুল’ । কোনও কিছু করব বলে মনে হলেই সেটা নিয়ে দ্রুত ভাবনাচিন্তা করে ফেলা ভাল। আজ করব না কাল করব এই দ্বিধায় অনেকসময়েই মানুষ সুযোগ হারিয়ে ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের অভ্যাসগুলো তৈরি হলে এই ফ্লেক্সিবিলিটি নিজে থেকেই চলে আসবে। গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার অভ্যাস তৈরি হবে।
১১) দমে না গিয়ে উৎসাহ বাড়াতে হবে
একইভাবে যদি মনে হয় এই কাজটা পারব না তাহলে উৎসাহ বাড়াতে হবে। মনের জোর আর ইচ্ছাশক্তিতে অনেক জটিল সমস্যার সমাধান তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মবিশ্বাসী মন তৈরি করতে হবে। পারব না, এই ভাবনা থেকে সামর্থ্য থাকলেও লক্ষ্যপূরণ করতে পারেন না অনেকে।
১২) বই পড়ার অভ্যাস
জর্জ মার্টিন বলেছিলেন, যিনি পড়েন তিনি মৃত্যুর আগে হাজার জীবন বাঁচেন। বই পড়ার অভ্যাস জীবনের ভিত তৈরি করে দেয়। শিকড়টাই শক্তপোক্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজ সকালে অন্তত একটা করে গল্প পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। অথবা কোনও অডিও বুক শুনলেও ভাল। এই অভ্যাস শুধু জ্ঞান বাড়াবে তাই নয়, আত্মবিশ্বাসও তৈরি করবে।
১৩) সোশ্যাল মিডিয়ায় গুরুত্ব কম
প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় না কাটিয়ে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে ভাল। টিভি দেখার সময় কমিয়ে খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন খুলে বসা ভাল। দিনে যতবার মোবাইল অ্যাপ খোলেন সেই সময় কমিয়ে ভাল বই পড়ে তার সারাংশ লিখে রাখলে চিন্তাশক্তি ও জানার ক্ষেত্রটা আরও প্রসারিত হবে।
১৪) নিজেকে খেয়াল করেছেন কখনও
আর পাঁচজন কীভাবে থাকছে, কী খাচ্ছে, তাদের জীবনে কী কী হচ্ছে এইসব খেয়ালই বেশি রাখি আমরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের খেয়াল আগে রাখতে হবে। রেগে গেলে আমরা কীভাবে ব্যবহার করি, আনন্দ পেলে তার বহিঃপ্রকাশ কেমন হয় সেটা খেয়াল করি না কোনওদিনই। রাগ, দুঃখ, বিরক্তিতে নিজের চারপাশের মানুষজনের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করছি সেটা আগে লক্ষ্য করা দরকার। নিজেকে বদলাতে পারলেই জীবন বদলে যাবে।
১৫) ‘না’ বলা শিখতে হবে
কিছু সময় না বলা শিখতে হবে। সবেতেই মাথা নাড়লে খুব মুশকিল। সম্পর্ক হোক বা প্রতিদিনের কাজ, গুরুত্ব বুঝে তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কে কী ভাববে সেটা মনে না করে সরাসরি না বলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
১৬) খারাপ চিন্তাগুলোকে বলুন গুডবাই
ভাল ভাবনা, পজিটিভ চিন্তা জীবনকে সুন্দর করে তোলে। খারাপ ভাবনা এলেই মন অন্যদিকে নিয়ে যেতে হবে। কীভাবে মনকে বশে রাখবেন তার চেষ্টা রোজকার জীবনেই করতে হবে। সারাদিনে যত খারাপ ভাবনা আসবে সেগুলো একদিকে সরিয়ে রেখে, ভাল চিন্তা করতে
হবে। তাহলে যে কোনও কাজ সঠিকভাবে হবে।
১৭) চিন্তা শুধু মনে নয় তার প্রতিফলন হবে কাজেও
যতক্ষণ না ভাবনাকে বাস্তবের মাটিতে ফেলা যায় ততক্ষণ তার কোনও মূল্য থাকে না। স্বপ্নকে সত্যি করতে হলে শুধু কিছু চিন্তার সমষ্টি মনে রেখে দিলেই চলবে না, বাস্তবে তার প্রয়োগ কীভাবে হতে পারে সেই পরিকল্পনাও ঠিক করতে হবে।
১৮) অল্পেই সন্তুষ্ট
নিজের হাতের কাছে যা আছে, যতটুকু আছে তাকেই ব্যবহার করা শিখতে হবে। অল্পে সন্তুষ্ট থাকার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। যেমন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবার ফ্রিজেই আছে তাও বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করি আমরা। এতে খাবারের অপচয় যেমন হয় তেমনি অপুষ্টিকর খাবার শরীর ও মনেও ছাপ ফেলে। বাড়তি জিনিসের ইচ্ছা যতটা ত্যাগ করা যায় ততই ভাল, সে যে কোনও দিকেই হোক।
১৯) এক গ্লাস জল বেশি খান
দিনে কতটা জল খাব এই ভাবনা না ভেবে, যখন জল খাচ্ছেন আরও এক গ্লাস বেশি খেয়ে নিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাও একটা অভ্যাস। রোজকার রুটিনে গুছিয়ে নিলে লাভ হবে অনেক বেশি।
২০) একটা স্ন্যাকস না হয় বাদই দিলেন
দিনে যদি চার পাঁচ রকমের ভাজাভুজি বা বাইরে থেকে কেনা স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে একদিন না হয় একরকমের পদ বাদই দিলেন। পরদিন আরও একটা। এইভাবে একটু একটু করে অপুষ্টিকর খাবারের দিকে ঝোঁক কমবে। আসলে জীবনে বদল আনতে গেলে শুধু মনকে বশে রাখলেই চলবে না, শরীরের খেয়ালও রাখতে হবে। শরীর ও মন একসঙ্গে ফুরফুরে থাকলেই জীবনের গাড়ি তরতরিয়ে চলবে।
২১) নিজের অনলাইন পোর্টাল বানিয়ে ফেলুন আজই
সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। পাঁচজনের ভাবনা জানতে হবে, বুঝতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট না করে নিজের অনলাইন পোর্টাল বা ওয়েবসাইট খুলে ফেলুন। সেখানে সৃজনশীল পোস্ট করুন। নিজের লেখা বা ভাবনা শেয়ার করুন। আর পাঁচজনের মতামত নিন। ব্লগ লেখাও শুরু করতে পারেন। এতে নিজেকে সপ্রতিভ মনে হবে। মনের দরজাও খুলবে। জটিলতা কমবে। মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ কখনও বাসা বাঁধবে না মনে।
২২) প্রতিদিন নিজেকে এই প্রশ্ন করুন
সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন নিজেকে এই প্রশ্ন করুন, “আজ কীভাবে নিজের জীবনে বদল আনব?” রোজকার দিনে এই অভ্যাস তৈরি করতে হবে। প্রতিদিন যদি নতুন নতুন কাজে নিজেকে চমকে দেওয়া যায়, তাহলেই বুঝতে হবে লক্ষ্যের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছেন আপনি। রোজই একটা করে নতুন অভ্যাস পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।