নাম তাঁর 'ট্রি ম্যান', কিন্তু জীবনের সঙ্গে জোড়েনি সবুজের সতেজতা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবাদে আছে ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’। কিন্তু এই গাছের জন্যই যে কারও জীবনে শুরু হতে পারে চরম সমস্যা তা বোধহয় জানতেন না কেউই।
লোকমুখে এখন তিনি পরিচিত ‘গাছ মানুষ’ বা ‘ট্রি ম্যান’ নামে। তবে নামের সঙ্গে গাছ জুড়লেও জীবনের সঙ্গে সবু
শেষ আপডেট: 22 January 2019 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবাদে আছে ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’। কিন্তু এই গাছের জন্যই যে কারও জীবনে শুরু হতে পারে চরম সমস্যা তা বোধহয় জানতেন না কেউই।
লোকমুখে এখন তিনি পরিচিত ‘গাছ মানুষ’ বা ‘ট্রি ম্যান’ নামে। তবে নামের সঙ্গে গাছ জুড়লেও জীবনের সঙ্গে সবুজের সতেজতা জোড়েনি। বরং এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আবুল বাজান্দর।
বাংলাদেশের বাসিন্দা বছর ২৮-এর যুবক আবুল। তাঁর দু’হাতের আঙুল দেখলে মনে হবে যেন গাছের ছাল-বাকল দিয়ে তৈরি। অনেক পুরনো গাছের ছাল যেমন শুকিয়ে খরখরে হয়ে যায়, ঠিক তেমনটাই চেহারা হয়েছে আবুলের হাতের। বহুবার হয়েছে অস্ত্রোপচার। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। কদিন ভালো থাকার পর ফের দেখা দিয়েছে একই সমস্যা। কমার লক্ষণই নেই। বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে এই বিরল রোগের প্রভাব। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিশ্বে এই রোগে আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা ছ’জনেরও কম। আর তাঁদের মধ্যেই একজন বাংলাদেশের আবুল বাজান্দর। তবে আবুল ছাড়া বাকিদের অবস্থা নাকি এতটা ভয়াবহ নয়। এমনটাই জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা।

পেশায় রিকশাচালক আবুলের জীবনে এ হেন সমস্যার সূত্রপাত ২০১৬ সাল থেকে। গতবছর মে মাস থেকে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে শরীরের অন্যান্য অংশেও। আবুল জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে যাঁদের সঙ্গে মিশেছেন তাঁরাও এখন মুখ ফিরিয়ে নেন ঘেন্নায়। বাচ্চারা তাঁকে ভয় পায়। নিজের ভাগ্যকেই দুষেছেন পঁচিশের এই যুবক। আর বলেছেন, “ওদের আর কী দোষ। আমার চেহারাটাই তো ভয় পাওয়ার মতো।“ গত বছর মে মাসে একবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তিও হয়েছিলেন আবুল। শুরু হয়েছিল চিকিৎসা। কিন্তু সুফল না পেয়ে অধৈর্য হয়ে পড়েন তিনি। বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়েই পালিয়ে যান হাসপাতাল থেকে।
ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ বার অপারেশন হয়েছে আবুলের হাতে। কিন্তু কোনও সুরাহা মেলেনি। বরং অপারেশনের কদিন যেতে না যেতেই ফের হাতের চামড়া শুকিয়ে গাছের ছাল-বাকলের আকার নেয়। জানা গিয়েছে, খুব জলদিই আরও একবার অপারেশ হবে আবুল বাজান্দরের হাতে। এ বার কী এই বিরল রোগের হাত থেকে মুক্তি পাবেন আবুল? আপাতত সেই আশাতেই দিন গুনছে এই বাংলাদেশি যুবক এবং তাঁর পরিবার।