প্লাস্টিক দূষণ রুখে সামুদ্রিক প্রাণ বাঁচাবে এই জাহাজ, নকশা বানিয়ে ফেলেছে ১২ বছরের কিশোর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্জ্য জমছে সমুদ্রে। মাত্রা ছাড়াচ্ছে দূষণ। এর প্রতিকার খুঁজতে বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা যখন মাথা ঘামাচ্ছেন, তখন চমকে দেওয়ার মতো সমাধান সূত্র নিয়ে হাজির হল এক কিশোর। বয়স মাত্র ১২। তবে মেধায় সমানে সমানে টক্কর দিতে পারে
শেষ আপডেট: 22 January 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্জ্য জমছে সমুদ্রে। মাত্রা ছাড়াচ্ছে দূষণ। এর প্রতিকার খুঁজতে বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা যখন মাথা ঘামাচ্ছেন, তখন চমকে দেওয়ার মতো সমাধান সূত্র নিয়ে হাজির হল এক কিশোর। বয়স মাত্র ১২। তবে মেধায় সমানে সমানে টক্কর দিতে পারে বিজ্ঞানীদের। গ্লোবাল অর্গানাইজেশন টেডএক্স ও টেড৮-এর ইভেন্টে এই কিশোরের বুদ্ধি ও নতুন আবিষ্কারের নমুনা দেখে তাজ্জব বনে গেলেন গবেষকরা।
নাম তার হাজিক কাজি। পুণের বাসিন্দা। প্লাস্টিক দূষণ রুখতে সে বানিয়েছে একটি জাহাজের নকশা। এমন জাহাজ যা একাধারে সমুদ্রে জমা বর্জ্য ছেঁকে নেবে, অন্যদিকে জল দূষণমুক্ত করে প্রাণ বাঁচাবে সামুদ্রিক প্রাণীদের। এমন জাহাজের সে নাম দিয়েছে ‘এরভিস’।
বিশেষ সেন্সর লাগানো ‘এরভিস’-এর নকশা একদম তৈরি। কাজও করবে একদম নিয়ম মেনে। বিজ্ঞানীদের এমনটাই জানিয়েছে কাজি। তার কথায়, ‘‘ইন্টারনেটে সামুদ্রিক দূষণের উপর নানা ডকুমেন্টারি দেখেই আমি এমন একটা জাহাজ বানানোর কথা ভাবি। সমুদ্রের প্রাণ বড়ই সঙ্কটে, তাদের বাঁচাতে হবে। সমুদ্রে জমা প্লাস্টিক ও বর্জ্য খাচ্ছে মাছ, সেই মাছ আবার আমরা খাচ্ছি। আমাদের তৈরি দূষণ এ ভাবেই ফিরে আসছে আমাদের কাছে।’’
[caption id="attachment_73530" align="aligncenter" width="684"]

এরভিসের এই নকশাই বানিয়েছে হাজিক কাজি।[/caption]
কী ভাবে কাজ করবে ‘এরভিস’? কাজি জানিয়েছে, এই জাহাজে লাগানো থাকবে বিশেষ কয়েকটি সেন্সর। তার একটি খুঁজে খুঁজে বর্জ্য সমেত জলকে শুষে নেবে। অন্য সেন্সর সেই দূষিত জল থেকে আবর্জনা ও সামুদ্রিক প্রাণীদের আলাদা করবে। এর পর চলবে জল শোধনের পালা। প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনাকে পাঁচটা স্তরে ভাগ করা হবে, সেগুলি জৈব সার তৈরির কাজে লাগবে। অন্যদিকে ছেঁকে নেওয়া শোধিত জল ও সামুদ্রিক প্রাণীদের ফের ছেড়ে দেওয়া হবে তাদের এলাকায়।
মাত্র ন’বছর বয়সেই এমন জাহাজ বানানোর কথা মাথায় আসে কাজির, জানিয়েছেন তার পরিবারের লোকজন। বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে কাজি। প্লাস্টিক দূষণ রোধে সচেতনতা বাড়ানোর নানা ক্যাম্পেনেও নিয়মিত যোগ দেয় সে।
জাতিসঙ্ঘের একটি সমীক্ষা বলছে, প্রতি বছর ৫০ লক্ষ থেকে দেড় কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে প্রবেশ করে। এর একটা বড় অংশ যায় মাছ ও সামুদ্রিক পাখিদের দেহে। এমনকি সমুদ্রের তলদেশে থাকা প্রাণীদের শরীরেও প্লাস্টিকের সন্ধান মিলেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) এর মতে, গাড়ির টায়ার ও বিভিন্ন টেক্সটাইল কারখানা থেকে নিঃসৃত ছোট ছোট প্লাস্টিকের কণা বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় সমুদ্র দূষণের মূল কারণ। মোট দূষণের প্রায় ৩০ শতাংশই প্লাস্টিকের এই কণার কারণে হয়ে থাকে।