দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধ্বংসী হারিকেন ঝড় 'এটা'র দাপটে কার্যত লন্ডভন্ড মধ্য আমেরিকা। এখনও পর্যন্ত জানা গেছে, অন্তত ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গুয়াতেমালা ও সংলগ্ন এলাকার রাস্তাঘাট যেন নদী হয়ে গেছে লাগাতার বৃষ্টিতে। বহু মানুষ গৃহহীন। ভেঙে পড়েছে অনেক বাড়িঘর।
হন্ডুরাসের সান পেড্রো সুলা শহরের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একাধিক পরিবার কার্যত পথে নেমেছে ঘরবাড়ি হারিয়ে। গাড়িগুলি অর্ধেকের বেশি জলমগ্ন। হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট জুয়ান অরল্যান্ডো হারনাডেজ বলেছেন, “পরিস্থিতি খুবই কঠিন। পেশাদারিত্বের সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে আমাদের। সারা দেশে ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ। আরও বাড়ছে প্রকৃতির তাণ্ডব। বিভিন্ন এলাকার মানুষকে উদ্ধার করতে স্পিডবোট ও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।”

আমেরিকাবাসীরা বলছেন, গত কয়েক দশকে এটাই মধ্য আমেরিকার অন্যতম এক ভয়ানক ঝড়। ২৪০ কিলোমিটারেরও বেশি প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া চলেছে নিকারগুয়ায়। সেখানেই 'এটা' ঝড়ের উতসস্থল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি ক্যাটেগরি ৪ হারিকেন ঝড়। নিকারগুয়া তোলপাড় করার পরে 'এটা' শক্তি খানিক কমিয়ে আছড়ে পড়েছে হন্ডুরাসে।

হন্ডুরাসের লা লিমা এলাকা থেকে এক মহিলার কাতর আর্তি ভাইরাল হয়েছে সে দেশের গণমাধ্যমে। অজ্ঞাতপরিচয় ওই মহিলা জানিয়েছেন, তিনি একটি বাড়ির ছাদে আটকে আছেন পাঁচ সন্তানকে নিয়ে। যে কোনও সময় বাড়িটি ভেঙে পড়তে পারে। তিনি কোনও ভাবেই নীচে নামতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত জানা গেছে, গুয়াতেমালায় অন্তত পাঁচ জন এবং হন্ডুরাসে সাত জন মারা গেছেন। নিকারগুয়ায় মৃত্যু হয়েছে দুজন খনিশ্রমিকের। গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো জিয়াম্মাত্তেই জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশে। এছাড়া গুয়াতেমালা, পানামা ও হন্ডুরাসে বহু মানুষ নিখোঁজ। কোস্টারিকাতেও ধস নেমে মারা গেছেন দুজন। পানামায় তিন শিশু-সহ পাঁচ জনের একটি পরিবার বাড়ি চাপা পড়ে মারা গেছেন।

তবে এত কিছুর মধ্যে একটা ভাল খবর হল, ৬০ জন মতস্যজীবীর যে দলটি নিখোঁজ হয়েছিল হন্ডুরাসে, তাঁদের খোঁজ মিলেছে। উদ্ধারও করা হয়েছে তাঁদের। তাঁরা বলছেন, এটা ‘মিরাকেল’ ছাড়া কিছুই নয়।

এখন হন্ডুরাস থেকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দিকে এগোচ্ছে হারিকেন এটা। হাওয়ার গতিবেগ রয়েছে ১৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। বৃষ্টির অবশ্য কমতি নেই।