দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল মেয়েকে। তারপর বস্তাবন্দি করে সেই দেহ ফেলে দিয়ে গিয়েছিল রাস্তার ধারে। ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখে সনাক্ত করেছিলেন তরুণীর পরিবারের লোকজনই। ময়নাতদন্তের পর দেহ ফিরিয়ে দিলে তার শ্রাদ্ধও হয়েছিল নিয়মমাফিক। বছর ঘুরতেই সেই মেয়ে হাজির বাড়ির দরজায়। সঙ্গে প্রেমিক।
পাতিয়ালায় তরুণী খুনের ঘটনা ফের ধন্দে পুলিশ। তরুণীর নাম নয়না রানি। বছর দুই আগে তাঁর বিয়ে হয় রূপনগর জেলার চামকৌর সাহিব এলাকায়। গত বছর বছর ডিসেম্বরে শ্বশুড়বাড়ি থেকে হঠাৎই উধাও হয়ে যান নয়না। তাঁর স্বামীর অভিযোগ ছিল, এক ট্রাক চালকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। সেই ব্যক্তির সঙ্গেই ঘর ছেড়েছেন নয়না।
নিখোঁজ ডায়রি পেয়ে তরুণীর খোঁজে তল্লাশি শুরু হওয়ার পর পাতিয়ালা-সাংরুর সড়কের ধারে বস্তাবন্দি এক তরুণীর দেহ উদ্ধার হলে নতুন করে রহস্য শুরু হয়। নয়নার পরিবার দাবি করে, ওই দেহ তাঁদের মেয়েরই। আর এই খুনের পিছনে তাঁর প্রেমিকের হাত রয়েছে।
এসএইচও জসবিন্দর সিংহ তিওয়ানা বলেছেন, নয়নার বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের মেয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে। সঙ্গে এসেছে তার সেই প্রেমিকও। তাহলে বস্তাবন্দি দেহটা কার ছিল? নয়নার পরিবারের দাবি, ওই দেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত ছিল যে তার মুখটা চেনা যায়নি, তবে পোশাক আর হাতের চুড়ি দেখে তাঁরা তখন দেহ সনাক্ত করেন।
পুলিশ আধিকারিক জসবিন্দরের কথায়, নতুন করে খুনের তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের সময় মৃত তরুণীর যে দেহাংশ রাখা ছিল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের কাছে সেখান থেকেই ডিএনএ এবং আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণীকে প্রথম এলোপাথাড়ি কোপানো হয়, পরে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তাঁর গলাও টেপা হয়েছিল। মৃতের ছবি গ্রামবাসীদের দেখিয়ে নতুন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, নয়না ও তাঁর প্রেমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করার কাজও চলছে।