দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরদুপুরের আগরার রাস্তায় বছর পনেরোর এক দলিত কিশোরীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। দেহের ৭০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল কিশোরীর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়েছিল দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে। গতকাল, বৃহস্পতিবার হাসপাতালে মৃত্যু হল ওই কিশোরীর। ওই দিনই আগ্রার লালাউ গ্রামে নিজের বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার হল কিশোরীর এক দাদার দেহ। পুলিশের অনুমান, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার কড়া পুলিশি প্রহরায় কিশোরীর দেহ তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সন্ধে বেলায় হয় শেষকৃত্য। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কিশোরীর সম্পর্কিত ওই দাদাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছিল পুলিশ।
কিশোরীর মৃত্যুকালীন বয়ান ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার স্কুল থেকে বাড়ি পথে দুই যুবক বাইকে চেপে এসে কিশোরীর পথ আটকায়। নানা কটূ কথ বলে তাকে উত্যক্ত করছিল যুবকরা। আচমকাই তাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। একজন বাইক থেকে একটি বোতল নিয়ে এসে কিশোরীর সারা গায়ে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মেয়েটি আর্তনাদ করে উঠলে বাইক ছুটিয়ে চম্পট দেয় তারা। রাস্তার মাঝে একটি মেয়েকে জ্বলতে দেখে ছুটে আসেন এলাকার বাসিন্দারা। একজন বাসচালক তার বাসের ভিতরে রাখা অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভায়। ততক্ষণে কিশোরীর দেহের প্রায় ৭০ শতাংশই পুড়ে গেছে। তাকে ভর্তি করা হয় সফদরজঙ্গ হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মৃত্যু হয় কিশোরীর।
আগ্রা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক অমিত পাঠক জানিয়েছেন, কিশোরীর ওই দাদার আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে ধোঁয়াশা রয়েছে। কেন তিনি আত্মঘাতী হলেন সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, ‘‘রহস্য বাড়ছে। কিশোরীর গায়ে আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে ওই যুবকের আত্মহত্যার কী যোগসূত্র রয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’