
শেষ আপডেট: 20 November 2018 18:30
৭২ বর্গকিলোমিটার (১৮,০০০ একর) এই দ্বীপটি বরাবরই রহস্যের মোড়কে ঘেরা। এখানকার জনজাতির সংখ্যা সম্পর্কেও সুস্পষ্ট ধারণা নেই। একসময় জানা গিয়েছিল, দ্বীপটিতে পুরুষ, মহিলা ও শিশু মিলিয়ে মোট ৪০০ জন বাস করে। কিন্তু, ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী বর্তমানে ওই দ্বীপের জনসংখ্যা ৪০। ২০০৪ সালের সুনামির পর থেকে দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ হয়ে উঠেছে অনেক রুক্ষ। খাবারেও টান পড়েছে। তা ছাড়া দুরারোগ্য ব্যধির প্রকোপ তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে সেন্টিনেলিজরা। কিন্তু তাও বহির্বিশ্ব থেকে তারা নিজেদের বিচ্ছিন্নই রেখেছে। স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকতেই তারা বেশি স্বচ্ছন্দ।
প্রায় ৬০ হাজার বছর ধরে সেন্টিনেলিজরা এই দ্বীপের বাসিন্দা। এরা আগুনের ব্যবহার জানে না। শেখেনি চাষাবাদও। এরা একে অপরের সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলে, তা তাদের সবচেয়ে কাছের উপজাতির পক্ষেও বোঝা অসম্ভব। মনে করা হয়, এই আদিম মানুষরা আফ্রিকা থেকে এসেছিলেন এই দ্বীপে।
আরও পড়ুন: Breaking News:মার্কিন পর্যটককে তীর-ধনুক দিয়ে মেরে ফেলল আন্দামানের উপজাতিরা
আদিম এই উপজাতির সঙ্গে সভ্য মানুষের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৮৮০ সালে। ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ এম ভি পোর্টম্যানের নেতৃত্বে একটি দল ওই দ্বীপে গিয়ে উপজাতিদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। উপজাতিদের এক প্রৌঢ় দম্পতি এবং চার শিশুকে তুলে নিয়ে আসেন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। তাদের নতুন পোশাক ও খাবার দেওয়া হয়। কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আধুনিক সমাজে মানাতে না পেরে রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক মাসের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাদের। এই ঘটনার পর সভ্য মানুষদের প্রতি সেন্টিনেলিজদের আক্রোশ কয়েক ডিগ্রি বেড়ে যায়।

১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একজন চিত্রগ্রাহক তথ্যচিত্র বানানোর জন্য গিয়েছিলেন সেন্টিনেল দ্বীপে। উপজাতিদের বিষ তীরের ঘায়ে তিনি মারাত্মক ভাবে জখম হন। ১৯৯১ সালে ভারত সরকার ফের সেন্টিনেলিজদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে। ১৯৯১ সালের ৪ জানুয়ারি আন্দামান-নিকোবরের এই দ্বীপে গিয়ে সেন্টিনেলিজদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন ভারতীয় নৃতত্ত্ববিদ ত্রিলোকনাথ পণ্ডিত। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ১৯৯৬ সালে তাদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে তারা কোনও যোগাযোগই রাখতে চায় না।
২০০৪ সালে সুনামির পর হেলিকপ্টারে নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ডে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিল ভারত সরকার। সে ত্রাণ নেওয়ার বদলে তারা পাল্টা আক্রমণ চালায়। ২০০৬ সালে দ্বীপে প্রবেশকারী দুই মৎস্যজীবীকে তীর ছুড়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে সেন্টিনেলিজরা। তার পর থেকেই ওই দ্বীপের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সরকার। নিষিদ্ধ দ্বীপের তকমা এঁটে যায় নর্থ সেন্টিনেলের গায়ে। বিপজ্জনক দ্বীপ হিসেবে পর্যটকরাও ওই দ্বীপের ছায়া মাড়ানো বন্ধ করে দেয়। দ্বীপের চারপাশে তিন ন্যটিকাল মাইল পর্যন্ত সীমানা নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়।
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন