দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারাত সাজিয়ে নাচতে নাচতে বিয়ে করতে যাওয়ার সময়েই বেমক্কা গুলিতে ধরাশায়ী হয়েছিলেন বর। তবে, হার মানেননি। হাসপাতাল ঘুরে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু সেরে সটান গিয়ে বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। কাঁধে তখনও আটকে রয়েছে গুলি। সে ভাবেই হল জয়মালা থেকে সিঁদুর দান। বরের এমন সাহস দেখে শ্বশুরবাড়ির লোক তো আহ্লাদে আটখানা। প্রশংসা করলেন পাড়া-প্রতিবেশীরাও।
ঘটনাটা সোমবারের। রাত দশটা নাগাদ দিল্লির মাদাঙ্গির এলাকায় দুই আততায়ীর গুলিতে জখম হন এক যুবক। নাম বাদল। ঘোড়ায় সওয়ার যুবক তখন যাচ্ছিলেন বিয়ে করতে। চারদিকে মত্ত ব্যান্ড-পার্টি, হই চই, কোলাহল। তার মাঝেই গুলির আওয়াজ। মোটরবাইকে চেপে আসা দুই যুবক গুলি ছুঁড়েই চম্পট দিয়েছে। ঘোড়া থেকে তখন মাটিতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন বাদল। বরযাত্রী ও স্থানীয়েরাই তাঁকে তুলে নিয়ে যান হাসপাতালে।
বরের গুলি লেগেছে শুনে মাথায় হাত পড়ে যায় কনের বাড়িতে। আতঙ্কে সকলেই ছুটে আসেন হাসপাতালে। কনের কী হবে? বিয়েটা কী আদৌ হবে? সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেন হবু বর নিজেই। হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে তিনি তখন চিকিৎসকদের বলছেন, শুধু রক্তপাত বন্ধ করলেই হবে। বড় অস্ত্রোপচারটা না হয় পরেই হবে। আগে তো বিয়ে, পরে অন্য কিছু! তবে তিন ঘণ্টার একটা ছোটখাটো সার্জারি করেছেন চিকিৎসকরা। তাতে গুলি বার করা যায়নি, তবে যুবকের যন্ত্রণাটা কিছু সময়ের জন্য রুখে দেওয়া গেছে।
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার বিজয় কুমার জানিয়েছেন, বাদলের কাঁধের হাড়ের মাঝে গুলি আটকে রয়েছে। সে ভাবেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তিনি। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর এ বার ভালো করে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হবে।
আততায়ীদের আপাতত কোনও খোঁজ মেলেনি। তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ।