দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাঠি দিয়ে মারতে মারতে সাপটির শিরদাঁড়াই ভেঙে দিয়েছিল জনা কয়েক লোক। সেই ভাঙা শিরদাঁড়াই দক্ষতার সঙ্গে জোড়া লাগালেন মুম্বইয়ের একদল পশু চিকিৎসক। মানুষের জন্য ব্যবহৃত আমআরআই (MRI) মেশিনে সাপের পরীক্ষাও করা হল সুনিপুণভাবে। ভাঙা হাড় আর বাঁকা শিরদাঁড়া মেরামত করে সেই সাপকে এখন রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। খুব দ্রুত তাকে ছেড়েও দেওয়া হবে জঙ্গলে।
ঘটনাটা বেশ কয়েকদিন আগের মুম্বইয়ের দাহিসার এলাকার। গত বৃহস্পতিবার সাপটির চিকিৎসা শেষ হয়। স্থানীয় থানার কনস্টেবল অনিল কুবল সাপটিকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আসেন পশু চিকিৎসক দীপা কাত্যালের চেম্বারে। কনস্টেবল জানিয়েছেন, সাপটির অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। সেটিকে সুস্থ করে তোলাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
পশু চিকিৎসক দীপা জানিয়েছেন, জাতে সেটি বাম্বু পিট ভাইপার (Bamboo Pit Viper)। চলতি ভাষায় গেছো বোড়া। সাপটিকে পরীক্ষা করে তিনি দেখেন সেটির শিরদাঁড়া একেবারেই বেঁকে গিয়েছিল। বারে বারে ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল তার শরীরে। দ্রুত চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড বসানো হয়। সাপটিকে বাঁচাতে অসাধ্য সাধন করেছেন যে চিকিৎসকরা তাঁদের মধ্যে একজন রেডিওলজিস্ট ডঃ রবি থাপার। তিনি সাপটির MRI Scan (Magnetic Resonance Imaging) করেন। তাতেই ধরা পড়ে সাপটির শিরদাঁড়া ক্ষতিগ্রস্ত। থাপারের কথায়, ‘‘জীবনে প্রথম বার সাপের এমআরআই স্ক্যান করলাম। এই মেশিনে এতদিন মানুষের এমআরআই করেছি।’’
চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ডঃ তৃষা ডিসুজা জানিয়েছেন, সাপটির অবস্থা এখন অনেক স্থিতিশীল। চিকিৎসায় সাড়াও দিয়েছে সে। ইঞ্জেকশনের বদলে টিউবে করে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। এতে তার যন্ত্রণা অনেকটাই কমবে।
তবে, সাপটিকে বাঁচাতে পেরে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন কনস্টেব কুবল। অত্যাধুনিক এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসকদের। তাঁর কথায়, সাপ দেখলেই মানুষ আতঙ্কে ভোগেন। মেরেও ফেলা হয়। কিন্তু, মুম্বইয়ের চিকিৎসকরা যে ভাবে সাপটিকে বাঁচিয়েছেন তা অন্য নজির তৈরি করেছে গোটা দেশবাসীর কাছে।