দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন স্ত্রী, এটা জানতে পারার পরই অশান্তি শুরু হয় পরিবারে। নিত্য়দিন স্বামীর খোঁটা সহ্য করতে না পেরে শেষে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করে সেই দেহ ভরে রাখেন রেফ্রিজারেটরে। পরকীয়ার জেরে এমন খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জামশেদপুরের বারাবাঁকি এলাকায়। মহিলা ও তাঁর প্রেমিক-সহ আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত শ্বেতা দাস জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী তপন অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে ফেলেছিলেন। প্রতিদিনই তাঁদের মধ্যে ঝামেলা লেগে থাকত এই নিয়ে। রোজই নেশা করে বাড়ি ফিরতেন তপন। তাঁর গায়ে নাকি বার কয়েক হাতও তুলেছিলেন। সেই থেকেই প্রেমিক সুমিত সিংহের সঙ্গে মিলে তপনকে খুনের ফন্দি আঁটেন শ্বেতা। তপন ও শ্বেতার আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শ্বেতার সঙ্গে সুমিতের আলাপ ফেসবুকে। বছর কয়েক আগে। বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে সম্পর্কে গড়ায়। নিজের বাড়িতেই সুমিতের সঙ্গে শ্বেতাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন তপন। শ্বেতা জানিয়েছেন, ঘটনার দিনও সুমিত হাজির ছিলেন তাঁদের বাড়িতে। রোজকার মতো তপন ফিরে শ্বেতাকে মারতে গেলেই পিছন থেকে তাঁকে চেপে ধরেন সুমিত। তাঁকে সঙ্গে দেন শ্বেতাও। প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় তপনকে। পরে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো রেফ্রিজারেটরে ঢুকিয়ে রাখেন দু’জনে।
ডিএসপি অনুদীপের সিংহের কথায়, ফ্রিজের মধ্যেই তপনের দেহ রাখা ছিল বেশ কিছুদিন। পরে আরও দুই শাগরেদ জুটিয়ে সেই রেফ্রিজারেটর অটোয় চাপিয়ে শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেন। দেহের টুকরোগুলো পুঁতে দেন মাটিতে। ঘটনায় সোনু লাল নামে সুমিতের আরও এক শাগরেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার অনুপ বিথারে জানিয়েছেন, শ্বেতা ও তপনের ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না সেটাও খোঁজ করছে পুলিশ।