
শেষ আপডেট: 23 December 2023 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে সাধারণ নির্বাচন তথা লোকসভা ভোটের আগের বছর। এমন বছরে বাংলায় যে কোনও ছোট বড় সব সময়েই আলোচনা হয়েছে। তা সে পঞ্চায়েতের ভোট হোক কিংবা সমবায় সমিতির নির্বাচন বা কোনও উপ নির্বাচন।
২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বড় নির্বাচন ছিল পঞ্চায়েত ভোট। গত বিশ-ত্রিশ বছরে বাংলায় প্রতিটা পঞ্চায়েত ভোটই ‘নিজগুণে’ মাইলফলক হয়ে রয়েছে। বরাবরই শাসক দল পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতেছে। তবে সাম্প্রতিক কালের পঞ্চায়েত ভোটগুলিতে ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল ছিল সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। দুটি জেলা পরিষদ দখল করে নিয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল। বাংলায় পরিবর্তনের জন্য সেই ভোটেই ভিত গাঁথা হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে তেমন অবশ্য কিছু ঘটেনি। বরং ২০০৮ সাল বা ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে যে ধরনের সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছিল, তার তুলনায় এবার হতাহতের সংখ্যা কমই ছিল। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা।
তবে এ বছর সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলে দিয়েছিল সাগরদিঘিতে উপ নির্বাচন। সাধারণত দেখা যায়, উপ নির্বাচনে শাসক দলই জিতে যায়। কারণ, বিধানসভার একটা বা দুটো আসনে উপ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজ্যে সরকারের বদল ঘটানো যায় না বলে মনে করে মানুষ। তাই সরকারের পক্ষেই মত দেওয়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু সাগরদিঘির উপ নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল শুধু হারেনি। বিশাল ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলকে পরাস্ত করেছিলেন বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। বাম-কংগ্রেস জোটকে এর পর সাগরদিঘি মডেল বলতে শুরু করেছিলেন অনেকেই।
রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত সাহার প্রয়াণের কারণে সাগরদিঘিতে উপনির্বাচন হয়েছিল। একুশের ভোটে তৃণমূল এই কেন্দ্রে জিতেছিল ৫০ হাজারের বেশি ব্যবধানে। উপনির্বাচনে দেখা যায় ৫০ হাজারের সেই হারা আসন কংগ্রেস জিতে নেয় ২২ হাজার ৯৮০ ভোটে।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ওই উপনির্বাচন ঘিরে রাজনীতি তাতছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা করতে যাওয়া, কংগ্রেস-বিজেপি আঁতাঁতের অভিযোগ, কংগ্রেস কর্মীর গ্রেফতার ঘিরে তোলপাড় হওয়া, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে ওসি বদল— সব মিলিয়ে সাগরদিঘিতে উত্তেজনার স্রোত বয়ে গেছিল সাগরদিঘিতে। শেষমেশ ভোটে জিতে সাবেক জাতীয় দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে বর্তমান বিধানসভায় যান বাইরন বিশ্বাস।
তবে বাইরন কংগ্রেসের স্থির থাকেননি। সাগরদিঘির মডেলকে তিনি নিজেই ভেঙে দেন। তিন মাসের মধ্যে তৃণমূলে যোগ দিয়ে বলেন, জোড়াফুলের প্রার্থী হওয়ারই ইচ্ছা ছিল। টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসে গেছিলাম। সাগরদিঘিতে এখন অনেকেই তাঁকে বায়রন ‘অবিশ্বাস’ বলে কটাক্ষ করেন।
সাগরদিঘির পর ধূপগুড়ি বিধানসভা আসনে উপ নির্বাচন হয়েছিল। সেই ভোটে আবার বিজেপির কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। ৪৩০৯ ভোটের ব্যবধানে জিতে যান তৃণমূল প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়। বাম কংগ্রেসের জোট এই ভোটে সাগরদিঘির মতো আর দাগ কাটতে পারেনি।