কলকাতায় দুই রহস্যমৃত্যু, গড়চা ও পর্ণশ্রীর ঘটনায় প্রবীণদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা কি একাকী প্রবীণদের জন্য আর নিরাপদ নয়! একই দিনে শহরের দুই জায়গা থেকে দুই বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার হল। বৃহস্পতিবার সকালে গড়িয়াহাটের গড়চা এলাকার একটি বাড়ি থেকে ঊর্মিলা ঝুন্ড নামের এক বৃদ্ধার গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয়। একই দিনে
শেষ আপডেট: 12 December 2019 12:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা কি একাকী প্রবীণদের জন্য আর নিরাপদ নয়! একই দিনে শহরের দুই জায়গা থেকে দুই বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার হল। বৃহস্পতিবার সকালে গড়িয়াহাটের গড়চা এলাকার একটি বাড়ি থেকে ঊর্মিলা ঝুন্ড নামের এক বৃদ্ধার গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয়। একই দিনে বেহালার পর্ণশ্রীর পারুইপোকা রোডে বাড়ির শৌচাগার থেকে উদ্ধার হয়েছে অঞ্জনা ধর নামের এক বৃদ্ধার পচাগলা দেহ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঊর্মিলাদেবীর এক ছেলে থাকেন শিলিগুড়িতে। অন্য ছেলে বিয়েবাড়ি উপলক্ষ্যে বাড়ির বাইরে ছিলেন। বুধবার রাতে বৃদ্ধা একাই ছিলেন বাড়িতে। এদিন সকালে তাঁর পরিচারিকা গিয়ে দেখেন দরজা বন্ধ। অনেক ডেকেও কোনও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন তিনি। প্রতিবেশীরা জানলা সরিয়ে দেখেন ভিতরে চারদিক রক্তে ভেসে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা দরজা ভেঙে দেখে খাটে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ঊর্মিলাদেবীর দেহ। তাঁর গলা কাটা। শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত। দেহটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের অনুমান, রাতে বৃদ্ধাকে একা অবস্থায় পেয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ কুকুর নিয়ে এসে এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃদ্ধার বাড়ি লাগোয়া একটি মদের দোকান রয়েছে। দোকানটি বন্ধ থাকলেও সেখানে নানারকম অসামাজিক কাজকর্ম হয়। এই খুনের সঙ্গে ওই মদের দোকানের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকালে পর্ণশ্রীর পারুইপাড়া রোডের একটি বাড়ির শৌচাগার থেকে অঞ্জনা ধর নামের এক বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বাপের বাড়ির কাছে একটা ভাড়া বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। তাঁর স্বামী অসিত ধর কর্মসূত্রে থাকেন গ্যাংটকে। ছেলে রাজস্থানে পড়াশোনা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবেশীরা সোমবার সকালে শেষবারের জন্য অঞ্জনাদেবীকে দেখেছিলেন। তারপর থেকে আর তাঁকে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুর্গন্ধ বেরাতে শুরু করে। তখনই পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেখেন, শৌচাগারে দেহটি পড়ে রয়েছে। দেহে যদিও কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। অঞ্জনাদেবীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বোঝা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়াও অঞ্জনাদেবীর ঘরের ফরেন্সিক পরীক্ষা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার পিছনে কারও হাত রয়েছে কিনা, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।