দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিতর্ক বিহারের সরকারি হোম নিয়ে।
এবারে ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু পাটনার রাজীব নগরের মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাদের একটি হোম। শুক্রবারে ওই হোমের দুই আবাসিককে পাটনা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করেন তাঁদের।
কিন্তু হোমের আধিকারিকরা এই ঘটনা পুলিশকে না জানিয়ে বেমালুম চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ।
রবিবার সকালে পুলিশকে ফোন করে এই দু’জনের মৃত্যু সম্পর্কে জানান ও হোমেরই এক আবাসিক। খবর পেয়েই তদন্তের জন্য ওই হোমে ছুটে যায় পুলিশ। খবর দেওয়া হয় সমাজ কল্যাণ দফতরেও। পুলিশের জেরার মুখে ওই হোমের আধিকারিকরা জানায় যে ওই দু’জন ডায়েরিয়া হয়ে মারা গিয়েছেন।
পাটনা পুলিশের ডিএসপি (আইনশৃঙ্খলা) মনোজ কুমার সুধাংশু জানান, হোমের আধিকারিকদের দাবি ৪০ ও ১৬ বছর বয়সী ওই দুই মহিলাকে পাটনা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যদিও হাসপাতালের ডাক্তারদের দাবি, হাসপাতালে আসার আগেই মারা গিয়েছিলেন দু’জনেই। এখনও তাঁদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
আবাসিকদের পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে ওই হোমের এই কর্মচারীকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। গত মে মাসে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাদের জন্য ওই হোমটি খোলা হয়। সেখানে ৭০ জন আবাসিক থাকেন বলে জানা যাচ্ছে।
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই শোরগোল পড়ে যায় বিহারের রাজ্য রাজনীতিতে।
ক’দিন আগেই বিহারের মুজফফরপুরে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মহিলাদের একটি হোমে প্রায় তিরিশ জন মহিলাকে যৌন হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা যায়।
এর পরেই ওই হোম থেকে ৪৪ জন আবাসিককে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মধুবনিতে অন্য একটি হোমে। কিন্তু সেই হোম থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে মুজাফফরপুর কাণ্ডের প্রধান সাক্ষী ১৩ বছরের এক নাবালিকা।
এই নিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন আরজেডি নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব। তাঁর অভিযোগ, নিজের ঘনিষ্ঠ নেতা এবং সরকারি আধিকারিকদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন নীতীশ। সেই জন্যই নীতীশের ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় ঝা’র চালানো মধুবনীর ওই হোমে পাঠানো হয়েছিল ওই নাবালিকাকে।