দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত মল্লিকার বাবা অঙ্গদানে সম্মত হওয়ার পরে তার কিডনি প্রতিস্থাপিত হয় মৌমিতার দেহে৷ কিন্তু তাতেও হল না শেষ রক্ষা৷ সোমবার ভোরে এসএসকেএম হাসপাতালে মারা গেলেন খড়দহের তরুণী মৌমিতা চক্রবর্তী৷
এসএসকেএম হাসপাতালে মারা যায় মল্লিকা মজুমদার নামের ১৫ বছরের এক কিশোরী৷ বেশ কয়েক দিন আগে কানে সংক্রমণ নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল সেখানে। তার মস্তিষ্কের কোষ ও টিস্যু শুকিয়ে যেতে থাকে। গত ১৩ অগস্ট তার পরিবারকে তা জানানো হয়। শনিবার রাতে ঘোষণা করা হয় ব্রেন ডেথ। এর পরেই তার বাড়ির লোকের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মল্লিকার কিডনি, চোখ, ত্বক, লিভার প্রতিস্থাপন করা হবে অন্য রোগীদের দেহে৷
সেই মতোই এসএসকেএমেই ভর্তি মৌমিতার শরীরে মল্লিকার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় শনিবার রাতেই৷ কিন্তু তার পর থেকেই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু হয় ৷ তাঁকে আইটিউতে স্থানান্তরিত করা হয়৷ সোমবার ভোরে মারা গেলেন তিনি৷
শনিবার মৌমিতা ছাড়াও আরও দু’জনের শরীরে মল্লিকার অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয় ৷ লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয় অজয় রমাকান্ত নায়েক নামের এক ব্যাক্তিকে৷ ৪৫ বছরের অজয় হাযদরাবাদের বাসিন্দা৷ শনিবার গভীর রাতেই এসএসকেএম থেকে গ্রিন করিডর তৈরি করে মল্লিকার লিভার বাইপাসের এই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় মাত্র ১৩ মিনিটে। শুরু হয় অজয়ের অস্ত্রোপচার।
মল্লিকার একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করে মৌমিতাকে বাঁচানো না-গেলেও, অন্য কিডনি প্রতিস্থাপনের পরে সাড়া দিয়েছেন সোদপুরের বাসিন্দা সঞ্জীব দাস। অজয়ের অবস্থাও এখন স্থিতিশীল।