দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'টি পৃথক কুয়ো থেকে উদ্ধার তিনটি দেহ! তেলঙ্গানার বম্মালারামারাম গ্রামের এই ঘটনায় হতবাক গ্রামবাসীরা। ঘনিয়েছে বিক্ষোভের আঁচও। পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি দেহই ময়না-তদন্তে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গ্রামেরই বাসিন্দা দশম শ্রেণি এক ছাত্রী তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। মঙ্গলবার পুলিশ তল্লাশি চলার সময়ে কুয়ো থেকে উদ্ধার হয় তার দেহ। একই সঙ্গে সেই কুয়ো থেকেই উদ্ধার হয় ১৮ বছরের এক তরুণীর দেহ! সে দু'মাস ধরে নিখোঁজ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। কাকতালীয় ভাবে, ওই গ্রামেরই আর একটি অব্যবহৃত কুয়ো থেকে উদ্ধার হয়েছে ১১ বছরের আর একটি মেয়ের দেহ। সে ২০১৫ সাল থেকে নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে স্থানীয় সূত্রে।
তৃতীয় দেহটি স্বাভাবিক ভাবেই পচেগলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে, কঙ্কাল ছাড়া কিছুই নেই। তার পোশাক দেখে তাকে শনাক্ত করেছে পরিবারের লোকজন। পুলিশ জানিয়েছে, শ্রীনিবাস রেড্ডি নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির চাষের জমির কুয়ো থেকে উদ্ধার হয়েছে মেয়েটির দেহ। রেড্ডিকে অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অন্য কুয়ো থেকে উদ্ধার হওয়া দশম শ্রেণির ছাত্রীটি স্কুল থেকে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ হয়। তার পরিবারের তরফে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে শুরু হয় তল্লাশি। ওই কুয়োর পাশে প্রথমে ছাত্রীটির স্কুল ব্যাগ দেখতে পান তদন্তকারীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, ওই ব্যাগের পাশে কিছু মদের বোতলও উদ্ধার হয়েছে।
ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করতে গিয়েই একই কুয়ো থেকে উদ্ধার হয় ১৮ বছরের তরুণীর দেহও। পুলিশ জানিয়েছে, দু'মাস ধরে সে নিখোঁজ থাকার পরে এলাকার সকলে ধরেই নিয়েছিল যে সে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। ফলে পুলিশে অভিযোগও দায়ের করা হয়নি তার বাড়ি থেকে। মঙ্গলবার তারও পচাগলা দেহ উদ্ধার হওয়ার পরে, সঙ্গের ব্যাগের ভিতরে পাওয়া বইযের উপর লেখা নাম থেকে শনাক্ত করা হয় তাকে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, তিন জনকেই ধর্ষণ করে খুন করা হয় এবং কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয় বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। এত দিন পরে দেহ উদ্ধার হওয়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তাকেও দায়ী করেন অনেকে। ভাঙচুর চালান অভিযুক্ত শ্রীনিবাস রেড্ডির বাড়িতেও। প্রশ্ন তোলেন, "গ্রামের প্রতিটি মেয়ে দূরের স্কুল-কলেজে পড়তে যায়। তারা কি পড়াশোনা বন্ধ করে দেবে!"